
আগামী বছরের জুন ও জুলাই মাসে ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের ছয়টি ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে কানাডার বৃহত্তম নগরী টরন্টো। এ সময় বিশ্বকাপের আয়োজক সংস্থা, খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর আগমনে নগরী থাকবে ব্যস্ত ও মুখর। তবে একই সঙ্গে চলমান সড়ক নির্মাণকাজ ও প্রকল্পের বিলম্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন নগরবাসীর একাংশ।
ডাউনটাউনে কর্মস্থলে যাতায়াতের জন্য নিয়মিত গাড়ি চালান জোবায়ের রহমান। তিনি বলেন, “আমরা অনেক আগেই বিপর্যয়ের আভাস পাচ্ছি। বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগেই এসব কাজ শেষ না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে।” তাঁর মতো আরও অনেক চালক আশঙ্কা করছেন, বড় টুর্নামেন্ট চলাকালে চলমান নির্মাণকাজ নগরীর যান চলাচলকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে।
এই উদ্বেগের প্রেক্ষিতে সিটি কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চলমান নির্মাণ প্রকল্প ও বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রয়োজনীয়তার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সিটি প্রশাসনের আশা, টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই অন্তত তিনটি বড় প্রকল্প সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
এই প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ডন ভ্যালি পার্কওয়ে (ডিভিপি) ও ব্রডভিউ অ্যাভিনিউয়ের মধ্যবর্তী কুইন স্ট্রিট ইস্টের উন্নয়নকাজ। পুরোনো স্ট্রিটকার অবকাঠামোর পরিবর্তে নতুন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই কাজ চলছে। পাশাপাশি ডিভিপি রিচমন্ড র্যাম্পের পুনর্বাসন প্রকল্পও বিশ্বকাপের আগেই শেষ করার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া কলেজ স্ট্রিটের কাছে কুইন’স পার্ক ক্রিসেন্ট এলাকায় ওয়াটারমেইন ও সড়কসংক্রান্ত একটি বৃহৎ প্রকল্পও রয়েছে, যেটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নিয়েছে সিটি কর্তৃপক্ষ।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, টরন্টো যেহেতু ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, সে কারণে মে মাস থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত নগরীর গুরুত্বপূর্ণ কিছু রুটে নির্মাণকাজ সীমিত রাখা হবে। এই সময় নির্মাণ কার্যক্রম নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় কেন্দ্রীভূত থাকবে, যাতে যান চলাচল ও বিশ্বকাপ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন না ঘটে।
সিটি কর্তৃপক্ষ জানায়, কিছু প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ করতে হতে পারে, যাতে বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ সময়সূচি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। আবার কিছু প্রকল্প বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর সম্পন্ন করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে।
বিশ্বকাপ সামনে রেখে নগরীর অবকাঠামো উন্নয়ন যেমন প্রয়োজনীয়, তেমনি দৈনন্দিন যাত্রীদের ভোগান্তি কমানোও বড় চ্যালেঞ্জ। এখন দেখার বিষয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পগুলো শেষ করে টরন্টো কতটা সফলভাবে এই আন্তর্জাতিক আসরের জন্য প্রস্তুত হতে পারে।
