
প্রতারণামূলক বিপণন সংক্রান্ত এক মামলায় কানাডার শীর্ষ সিনেমা হল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান সিনেপ্লেক্স ইনকর্পোরেশনের বিরুদ্ধে আরোপিত প্রায় ৩ কোটি ৯০ লাখ ডলারের জরিমানা বহাল রেখেছে ফেডারেল কোর্ট অব আপিল। অনলাইন টিকিট বুকিং ফি প্রদর্শনের ক্ষেত্রে ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগে কম্পিটিশন ব্যুরোর দেওয়া ২০২৪ সালের সিদ্ধান্তকে আদালত সমর্থন জানায়। শুক্রবার টরন্টোভিত্তিক কোম্পানিটি এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
তবে আদালতের এই রায়ের সঙ্গে একমত নয় সিনেপ্লেক্স। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট অব কানাডায় নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। তাদের দাবি, অনলাইন বুকিং ফি আরোপ ও তা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে তারা আইন মেনে চলেছে এবং ভোক্তাদের প্রতারণার কোনো উদ্দেশ্য তাদের ছিল না।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২২ সালের জুনে। সে সময় সিনেপ্লেক্স তাদের অনলাইন টিকিট বুকিং ব্যবস্থায় নতুন ফি কাঠামো চালু করে। সিনেক্লাবের সদস্য নন এবং সিনে প্লাস লয়ালটি প্রোগ্রামের আওতায় পড়েন না এমন গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রতিটি অনলাইন বুকিংয়ের জন্য ১.৫০ ডলার করে ফি নেওয়া শুরু হয়। অন্যদিকে, সিনেক্লাব ও সিনে প্লাস লয়ালটি প্রোগ্রামের সদস্যদের ক্ষেত্রে এই ফি কমিয়ে এক ডলারে নির্ধারণ করা হয়।
সিনেপ্লেক্সের যুক্তি ছিল, অনলাইন সেবা পরিচালনা ও প্রযুক্তিগত ব্যয়ের অংশ হিসেবে এই ফি আরোপ করা হয়েছে। তবে কম্পিটিশন ব্যুরোর মতে, সমস্যাটি ফি আরোপ নয়, বরং তা যেভাবে গ্রাহকদের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে।
কম্পিটিশন ব্যুরো ২০২৩ সালে সিনেপ্লেক্সের বিরুদ্ধে মামলা করে। ব্যুরোর অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি ‘ড্রিপ প্রাইসিং’ বা ধীরে ধীরে মূল্য বাড়ানোর কৌশল ব্যবহার করেছে। এই পদ্ধতিতে প্রথমে তুলনামূলক কম মূল্যের বিজ্ঞাপন দেখিয়ে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করা হয়। পরে বুকিং প্রক্রিয়ার শেষ ধাপে অতিরিক্ত ফি যোগ করা হয়, যা শুরুতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি।
ব্যুরোর দাবি, সিনেপ্লেক্সের বিজ্ঞাপনে টিকিটের প্রকৃত মোট মূল্য স্পষ্ট ছিল না। বিশেষ করে, কোনো থিয়েটারে সরাসরি গিয়ে টিকিট কাটলে অনলাইন বুকিং ফি প্রযোজ্য হবে না এই তথ্যও পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে গ্রাহকরা অনলাইন বুকিংয়ের সময় শেষ মুহূর্তে অতিরিক্ত খরচের মুখোমুখি হয়েছেন।
ফেডারেল কোর্ট অব আপিল ব্যুরোর যুক্তিকে গ্রহণযোগ্য বলে মনে করেছে। আদালতের মতে, ভোক্তা সুরক্ষা আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্য সংক্রান্ত তথ্য স্পষ্ট, সহজবোধ্য ও পূর্ণাঙ্গভাবে উপস্থাপন করা অত্যন্ত জরুরি। সিনেপ্লেক্স সেই মানদণ্ড পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
আদালত যে জরিমানার অঙ্ক বহাল রেখেছে, তা ২০২২ সালের জুন থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা মোট অনলাইন বুকিং ফির প্রায় সমান যার পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি ৮৯ লাখ ডলার।
সিনেপ্লেক্স জানিয়েছে, তারা এই রায়ের আইনি দিকগুলো খতিয়ে দেখছে এবং সুপ্রিম কোর্টে আপিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। অন্যদিকে, কম্পিটিশন ব্যুরো বলছে, এই রায় ভোক্তা অধিকার রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করেছে এবং ভবিষ্যতে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও স্বচ্ছ মূল্য প্রদর্শনে বাধ্য করবে।
এই মামলাকে অনেক বিশ্লেষক কানাডায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও অনলাইন সেবার মূল্য নির্ধারণ সংক্রান্ত আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন।
