
কানাডায় স্বাস্থ্য সংক্রান্ত অপতথ্য (মিসইনফরমেশন) দ্রুত বাড়ছে এমনই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে কানাডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (সিএমএ)-এর সর্বশেষ এক সমীক্ষায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওপর মানুষের নির্ভরতা বাড়ার ফলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সিএমএর বার্ষিক হেলথ অ্যান্ড মিডিয়া ট্র্যাকিং সমীক্ষা অনুযায়ী, সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ৬২ শতাংশ কানাডিয়ান জানিয়েছেন যে তারা গত এক বছরে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত এমন তথ্য বা খবরের মুখোমুখি হয়েছেন, যা পরবর্তীতে ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই হার আগের বছরের তুলনায় ৮ শতাংশ বেশি, যা অপতথ্যের বিস্তার যে বাড়ছে তারই ইঙ্গিত দেয়।
ভুয়া তথ্য বিশ্লেষক টিম কোফিল্ড এ প্রসঙ্গে বলেন, সমীক্ষায় উঠে আসা এই প্রবণতা তাকে খুব একটা অবাক করেনি। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, মানুষ যে মাত্রায় এসব ভুয়া তথ্য বিশ্বাস করছে, তা তাকে গভীরভাবে হতাশ করেছে। তার মতে, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ভুল তথ্য মানুষের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের পাশাপাশি সামগ্রিক জনস্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
গত বছরের ১২ থেকে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত এই সমীক্ষাটি পরিচালিত হয়। এতে সারা কানাডা থেকে ৩ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষ অংশ নেন। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তরুণ প্রজন্মই সবচেয়ে বেশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে খবর সংগ্রহ করছে। সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ৫৮ শতাংশ জেন-জি এবং ৩৭ শতাংশ মিলেনিয়াল জানিয়েছেন যে তারা মূলত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকেই খবর পান।
তবে অপতথ্যের মুখে পড়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছেন মিলেনিয়ালরা। অন্যদিকে, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত অপতথ্যের মুখোমুখি হওয়ার হার সবচেয়ে কম দেখা গেছে বেবি বুমার প্রজন্মের মধ্যে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথাগত গণমাধ্যমের ওপর আস্থা এবং তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাস বয়সভেদে ভিন্ন হওয়াই এর অন্যতম কারণ।
সমীক্ষায় অংশ নেওয়া সব বয়সী উত্তরদাতারাই জানিয়েছেন, ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে তারা স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বেশি ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের সম্মুখীন হয়েছেন। এসব তথ্য অনেক ক্ষেত্রেই সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লেও পরে সেগুলো ভুল প্রমাণিত হয়েছে।
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, সমীক্ষায় উঠে এসেছে যে ৪৩ শতাংশ কানাডিয়ান স্বাস্থ্য সংক্রান্ত অপতথ্য নিয়ে অতিমাত্রায় সংবেদনশীল বা উদ্বিগ্ন। একই সঙ্গে কানাডায় স্বাস্থ্য বিষয়ক খবরের ওপর সামগ্রিক আস্থার মাত্রাও ধীরে ধীরে কমছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যম, চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর ভূমিকা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে, নইলে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত অপতথ্য ভবিষ্যতে আরও বড় সামাজিক ও স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে।
