
গত এক দশকে কানাডার বৃহত্তম শহর টরন্টোতে মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য অবনতি ঘটেছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০১৫ সালে যেখানে টরন্টোর প্রায় তিন-চতুর্থাংশ বাসিন্দা নিজেদের মানসিক স্বাস্থ্যকে “খুব ভালো” বা “চমৎকার” বলে মূল্যায়ন করেছিলেন, সেখানে ২০২২ সালে সেই হার নেমে এসেছে মাত্র অর্ধেকের কাছাকাছি। এই পরিস্থিতিকে “নজিরবিহীন” বলে অভিহিত করেছেন অন্তত একজন শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ।
কানাডিয়ান মেন্টাল হেল্থ অ্যাসোসিয়েশন, সেন্টার অফ অ্যাডিক্শান অ্যান্ড মেন্টাল হেল্থ (সিএএমএইচ), সিটি অফ টরন্টো এবং অন্যান্য সংগঠনের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে থ্রাইভ টু এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়, ২০১৫ সালে টরন্টোর ৭৩ শতাংশ বাসিন্দা নিজেদের মানসিক স্বাস্থ্যকে খুব ভালো বা চমৎকার বলে মনে করলেও ২০২২ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫২ শতাংশে।
প্রতিবেদনটি তৈরিতে স্ট্যাটিসটিকস কানাডা, সিএএমএইচ, অন্টারিও হেল্থ এবং টরন্টো মেন্টাল হেল্থ অ্যান্ড অ্যাডিক্শান অ্যাকসেস পয়েন্ট-এর একাধিক বছরের উপাত্ত বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের অন্যতম প্রধান লেখক এবং ওয়েলেসলি ইনস্টিটিউট-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. কুয়ামি ম্যাকেঞ্জি বলেন, “এটি সত্যিই নজিরবিহীন। মানসিক স্বাস্থ্য ভালো আছে বলে যারা দাবি করতেন, তাদের হার তিন-চতুর্থাংশ থেকে অর্ধেকে নেমে এসেছে। এ নিয়ে আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।”
প্রতিবেদন প্রকাশের সময়টি ‘ব্লু মানডে’র সঙ্গে কাকতালীয়ভাবে মিলে গেছে। ব্লু মানডেকে বছরের সবচেয়ে বিষণ্ন দিন হিসেবে উল্লেখ করা হলেও উপাত্ত বলছে, টরন্টোর মানসিক স্বাস্থ্য সংকট কেবল কোনো একটি দিনের আবেগগত বিষণ্নতায় সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি মহামারির সময় দেখা দেওয়া সমস্যার চেয়েও গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কোভিড-১৯ মহামারির শুরুর বছরগুলোতে মানসিক সুস্থতার বড় ধরনের অবনতি ঘটলেও এই প্রবণতা মহামারির আগেই শুরু হয়েছিল। শুধু টরন্টো নয়, কানাডাজুড়েই ধীরে ধীরে এই অবনমন দৃশ্যমান ছিল, যা কোভিডের সময় আরও তীব্র আকার ধারণ করে।
ড. ম্যাকেঞ্জি এ প্রসঙ্গে বলেন, “অনেকের জন্য এটা বলা সহজ যে কোভিডের কারণেই আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, কোভিডের আগেই এই প্রবণতা শুরু হয়েছিল। মহামারির সময় থেকে শুধু এর গতি আরও বেড়ে গেছে।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, আবাসন সংকট এবং স্বাস্থ্যসেবায় পর্যাপ্ত ও সময়মতো সহায়তা না পাওয়ার মতো বিষয়গুলো এই মানসিক স্বাস্থ্য সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, নীতিগত পরিবর্তন এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
