
কানাডার তথ্য কমিশনার ক্যারোলাইন মেনার্ড প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য পূর্ণ মন্ত্রীর কার্যালয়কে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আনার জোরালো দাবি জানিয়েছেন। সোমবার হাউজ অব কমন্সের একটি কমিটির সামনে হাজির হয়ে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হলে এই আইনকে আরও বিস্তৃত করতে হবে এবং সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দপ্তরগুলোকেও এর আওতায় আনতে হবে।
ফ্রেঞ্চ ভাষায় দেওয়া বক্তব্যে মেনার্ড তথ্যপ্রাপ্তির অধিকারকে “আধা সাংবিধানিক অধিকার” হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, “কানাডিয়ানদের তাদের তথ্য পাওয়ার অধিকার রয়েছে। গণতন্ত্রে স্বচ্ছতা কেবল একটি নীতি নয়, এটি নাগরিকের মৌলিক দাবি।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, ফেডারেল সরকারের প্রতিটি বিভাগ, প্রতিটি ইনস্টিটিউশন ও প্রতিটি সংস্থার উচিত তথ্য অধিকার আইনে করা আবেদনের জবাব দেওয়ার জন্য আলাদা ও দক্ষ টিম গঠন করা।
বর্তমানে মাত্র ৫ ডলার ফি পরিশোধ করে সাধারণ নাগরিকরা ফেডারেল নথি চেয়ে আবেদন করতে পারেন। এসব নথির মধ্যে রয়েছে অভ্যন্তরীণ ইমেইল, নীতি-সংক্রান্ত দলিল, গবেষণা প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক তথ্য। তবে সমালোচকদের মতে, ১৯৮৩ সালে কার্যকর হওয়া এই আইনটি সময়ের তুলনায় অনেকটাই পুরোনো এবং এর প্রয়োগ সব ক্ষেত্রে সমান নয়।
আইন অনুযায়ী, ফেডারেল সংস্থাগুলোকে ৩০ দিনের মধ্যে আবেদনের জবাব দিতে হয়। তারা হয় তথ্য সরবরাহ করতে পারে, নয়তো কেন আরও সময় প্রয়োজন তার যুক্তিসহ ব্যাখ্যা দিতে পারে। কিন্তু বাস্তবে অনেক আবেদনকারী দীর্ঘসূত্রতা, বিলম্ব এবং আইনের বিভিন্ন অব্যাহতি ধারার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন। ফলে তথ্যপ্রাপ্তির প্রক্রিয়া প্রায়ই জটিল ও সময়সাপেক্ষ হয়ে ওঠে।
তথ্য কমিশনার মেনার্ড বলেন, “আইন থাকলেই হবে না, কার্যকর প্রয়োগও জরুরি।” তার মতে, সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সক্ষমতা ও প্রস্তুতির অভাব থাকলে নাগরিকদের তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার ক্ষুণ্ন হয়। তাই তিনি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে নিবেদিত টিম গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উল্লেখ্য, গত কয়েক দশক ধরে একাধিক গবেষণা ও সুপারিশে তথ্য অধিকার আইন সংস্কারের কথা বলা হলেও বাস্তবে পরিবর্তন এসেছে খুবই সীমিত পরিসরে। ২০১৯ সালে একটি উল্লেখযোগ্য সংশোধনের মাধ্যমে তথ্য কমিশনারকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তির জন্য ফেডারেল সংস্থাগুলোকে আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়। তবে অনেকের মতে, এই ক্ষমতা যথেষ্ট নয়; আইনকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করে তোলার জন্য আরও ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের কার্যালয়কে আইনের আওতায় আনা হলে সরকারের নীতি নির্ধারণ প্রক্রিয়া ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বচ্ছতা অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে। তবে এর বিপরীতে প্রশাসনিক গোপনীয়তা ও নীতিগত আলোচনার স্বাধীনতা বজায় রাখার প্রশ্নও সামনে আসতে পারে।
সব মিলিয়ে, তথ্য কমিশনারের এই অবস্থান কানাডার তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার নিয়ে চলমান বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে। গণতান্ত্রিক জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার প্রশ্নে সরকার ভবিষ্যতে কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই নজর সবার।
