
টরন্টোর বাংলা কমিউনিটিতে এখন গুনীমানুষের পরিমাণ ক্রমাগত বাড়ছে। এরকমই একজন কমিউনিটি লিডার ও কৃষিবিদ আবুল বাশার। তার গল্পই আজ বলবো।
২০২২ সাল। দুই মাস হলো আমাদের আম্মার ইন্তেকাল হয়েছে। এক বছর আগেও আমি অসুস্থ আম্মার কাছে ছিলাম ছয়মাস। আম্মার মৃত্যু সংবাদ পেয়ে ছুটে যাই পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে। এদিকে টরন্টো প্রবাসী কবি ইকবাল হাসান, আমাদের ইকবাল ভাইও বেশ কিছু মাস থেকে বাংলাদেশে। ইকবাল ভাই অসুস্থ হওয়ায় ঢাকায় ইকবাল ভাইয়ের সঙ্গে সময় সুযোগে এসে আড্ডা দেই। এক দুপুরে ঢাকায় ইকবাল ভাইয়ের বোনের বাসায় মধ্যাহ্ন ভোজের নিমন্ত্রণে গিয়েছি। আমাদের দু’জনের তুমুল আড্ডায় এক পর্যায়ে বাশার ভাইয়ের প্রসঙ্গ উঠে এলো। ভাবলে অবাক হই মানুষের কোন কোন কথা, আচরণ ও স্বভাব হাজার মাইল দূরকে নিমেষে অস্বীকার করে গল্পের বিষয় হয়ে যায়!
কি ছিল আমাদের দুজনের মধ্যে বাশার ভাইকে নিয়ে গল্পের বিষয়? এক কথায় বললে বলবো- ভালোবাসা।
টরন্টোর বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রিয়মুখ, কৃষিবিদ বাশার ভাইয়ের আচরণে বড় বেশী করে এই মায়া-ভালোবাসার বন্ধনটি আছে। যার সঙ্গেই তার পরিচয়, বন্ধুত্ব বা জানাশোনা, বাশার ভাই সম্মানের সঙ্গে মায়ার বাঁধনটি দিয়ে তাকে বেঁধে রাখতে জানেন। টরন্টো শহরে আমরা যে একীভূত হয়ে থাকার মূলমন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে জীবনকে যাপন করার সমাজের স্বপ্ন দেখি, বাশার ভাই ও তার মতো মানুষেরা সেখানে আন্তরিকতার শুষ্ক মনোভূমিকে অবিশ্রান্তভাবে অন্তর্জলে সিক্ত করে রেখেছেন।

একটি সুধী, সভ্য ও সারস্বত সমাজ গঠনে সুশীলের স্বীকৃতি অন্যতম নিয়ামক। সুশীলের স্বীকৃতি ও সম্মাম প্রদর্শনই একটা সমাজকে সম্মানিত করে তোলে। এক্ষেত্রে ব্যক্তিগত জীবনের যাপনে বাশার ভাইও টরন্টোয় অনন্য ভূমিকা পালন করে চলেছন।
দুই.
টরন্টোর কৃষিবিদ বাশার ভাইকে নিয়ে যখন এই কয়েকটি কথা আমি লিখছিলাম, তখন আমি আমার নানাবাড়ি ইকরামে যাওয়ার পথে। যে ইকরাম গ্রামে আমার আম্মা এবং আমারও জন্ম হয়েছিল। আমার এই যাত্রাপথে রাস্তার দু’পাসে সবুজ ধানের ক্ষেত৷ যতদূর চোখ যায়, দিগন্তবিস্তৃত অবারিত সবুজের সমারোহ। মুগ্ধ হয়ে আমি দূর বিস্তীর্ণ সবুজ প্রান্তের অপস্রিয়মাণ গ্রামের দিকে তাকিয়ে মনে পড়ছিল বাশার ভাইয়ের কথা। সেদিন ছিল বাশার ভাইয়ের জন্মদিন। আজকের দিনই সেদিন! অকৃত্রিম সেই সবুজের সমারোহে তাকে আমার মনে পড়েছে। ঢাকায় ইকবাল ভাইয়ের সঙ্গে আলাপকালেও তাকে আমাদের মনে পড়েছিল। মনে পড়েছে বাশার ভাই আমাদেরকে মনে রাখেন বলেই।
এই পৃথিবীর মধ্যে আমার জন্য প্রিয়তম মাটি ও স্থান ইকরাম। আমার জন্মভূমি ও আমার নানাবাড়ি। এখান থেকে আমি বাশার ভাইকে অনেক শুভেচ্ছা জানিয়েছিলাম। আজ আমি টরন্টোয় আমার ডেরায় থেকেও ইকরামের সোঁদা মাটির গন্ধ, কাদামাখা পায়ে জীবনকে যাপন করে চলেছি।
তিন
গ্রেটার টরন্টো এরিয়াতে এখন প্রায় দেড়লক্ষ বাংলাদেশি-কানাডিয়ানের বসবাস। এর মধ্যে বিপুল সংখ্যক প্রফেশনাল। তাদেরএই একজন আমাদের আবুল বাশার। অনেকেই আবুল বাশারের মতো কমিউনিটির বিকাশে অগ্রগামী ভূমিকা রাখবেন-এই বিশ্বাস আমাদের সকলের।
টরন্টো, কানাডা
