
কানাডায় সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমার ইঙ্গিত মিললেও খাদ্যদ্রব্যের দাম বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের ব্যয় সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠছে। দেশটির পরিসংখ্যান সংস্থা স্ট্যাটিস্টিকস কানাডা মঙ্গলবার প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, জানুয়ারি মাসে বার্ষিক সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৩ শতাংশে। অর্থনীতিবিদদের অনেকেই ধারণা করেছিলেন যে এ সময় মূল্যস্ফীতির হার ২ দশমিক ৪ শতাংশে স্থির থাকবে, কিন্তু বাস্তবে তা সামান্য কম হয়েছে।
তবে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি কমলেও খাদ্য মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। জানুয়ারিতে খাদ্যদ্রব্যের বার্ষিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৩ শতাংশে, যা ডিসেম্বর মাসে ছিল ৬ দশমিক ২ শতাংশ। ফলে বাজারে খাদ্যদ্রব্যের ক্রমবর্ধমান দাম ভোক্তাদের জন্য বড় চাপ সৃষ্টি করছে। স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারিতে গ্যাসোলিন বা জ্বালানির দাম আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। মূলত ভোক্তা কার্বন প্রাইসিং ব্যবস্থা এপ্রিল মাসে বাতিল হওয়ার প্রভাবেই এই দাম কমেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া আবাসন খাতেও মূল্যস্ফীতি কমেছে। গত পাঁচ বছরের মধ্যে জানুয়ারিতে আবাসন মূল্যস্ফীতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এই দুটি খাতে দাম কমার ফলে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির হার নিচের দিকে নেমে এসেছে এবং অর্থনীতিতে কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত দেখা গেছে। খাদ্য মূল্যস্ফীতি বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে রেস্তোরাঁয় খাবারের দাম বৃদ্ধিকে চিহ্নিত করেছে পরিসংখ্যান সংস্থাটি। জানুয়ারিতে রেস্তোরাঁয় খাবারের দাম বেড়েছে ১২ দশমিক ৩ শতাংশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে রয়েছে ফেডারেল সরকারের ঘোষিত ‘ট্যাক্স হলিডে’ নীতি।
সরকার নির্দিষ্ট কিছু খাদ্য ও সেবার ওপর ফেডারেল বিক্রয় করের অংশ দুই মাসের জন্য স্থগিত করেছে। এই নীতির প্রভাবেই বাজারে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা গেছে। শুধু খাদ্য নয়, ট্যাক্স হলিডের কারণে অ্যালকোহল, শিশুদের পোশাক, খেলনা ও গেমের দামও জানুয়ারিতে আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে।
খাদ্য মূল্যস্ফীতি নিয়ে কানাডার রাজনৈতিক অঙ্গনেও তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। পার্লামেন্ট হিলে এ বিষয়টি এখন অন্যতম আলোচিত ইস্যু। বিরোধী কনজার্ভেটিভ দলের নেতা পিয়েরে পয়লিয়েভর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতির জন্য পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলে দুর্বল নিয়ন্ত্রণকে দায়ী করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আগেই সরকারের নীতিতে জরুরি পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে একটি চিঠি পাঠিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, জানুয়ারিতে গ্রোসারি স্টোরগুলোতে খাদ্য কেনার ব্যয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। যদিও ডিসেম্বর মাসে এই বৃদ্ধি ছিল ৫ শতাংশ। অর্থাৎ খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়লেও তার গতি কিছুটা ধীর হয়েছে। অন্যদিকে বাজারে কিছু পণ্যের দাম কমার খবরও রয়েছে। জানুয়ারিতে তাজা ফলের দাম আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে।
সব মিলিয়ে কানাডার অর্থনীতিতে একটি দ্বৈত চিত্র দেখা যাচ্ছে। জ্বালানি ও আবাসন খাতে মূল্যস্ফীতি কমে সামগ্রিক সূচককে নিচে নামালেও খাদ্যদ্রব্যের দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় চাপ সৃষ্টি করছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, খাদ্য বাজারে স্থিতিশীলতা না এলে ভোক্তাদের আর্থিক সংকট সহজে কাটবে না এবং রাজনৈতিক চাপও আরও বাড়তে পারে।
