
পৃথিবীতে মহামারী এসেছিল আবার চলেও গেছে। এর আগে মহামারী অঞ্চলভেদে হয়েছে, নির্দিষ্ট দেশভেদে হয়েছে। এবারই প্রথম বিশ্বব্যাপী প্রতিটি দেশে মহামারী ছড়িয়েছে। দীর্ঘ প্রলম্বিত এই বৈশ্বিক মহামারী অনেক প্রান কেড়ে নিয়েছে। অনেকে তার নিকটজন, প্রিয়জন হারিয়েছেন। এই বৈশ্বিক মহামারীর প্রকোপে সারা বিশ্ব স্তম্ভিত এবং স্থবির হয়ে পড়েছিল। সারা বিশ্বের মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছিল এই বৈশ্বিক মহামারীর কাছে। একে অপরের থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা,মাস্ক পরিধান করা,হাতে গ্লাভস পরা, স্যানিটাইজ করা ইত্যাদি বিষয়গুলি মানুষের জীবনে নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিনত হয়েছিল। অনেক সময় মানুষকে গৃহবন্দী হয়ে লক-ডাউনে থাকতে হয়েছে। জীবনযাত্রা,অর্থনীতির চাকা সব স্থবির হয়ে পড়েছিল।
এমন একটি পরিস্থিতিতে মানুষ মানুষের পাশে এসে দাড়িয়েছে। কানাডাতে সিসিএসএস সর্বাগ্রে মানবতার টানে এগিয়ে এসেছে। সিসিএসএস এর অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবী লক-ডাউনের সময় মানুষের দ্বারে দ্বারে গ্রোসারী সামগ্রী, প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র এবং বিভিন্ন হসপিটালে মাস্ক পৌঁছে দিয়েছে। সেই সময় অনেকে সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়েও আত্নমানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছিল। একটাই মাত্র উদ্দেশ্য ছিল, মানুষ মানুষের পাশে এসে একসাথে এই মহাসংকটকাল পাড়ি দেওয়া। ইতিহাসের পাতায় নিজের ক্ষুদ্র একটি অবদানের সাক্ষ্য রেখে যাওয়া।
বিজ্ঞানের কল্যানে একদিন এই বৈশ্বিক মহামারীর সর্বগ্রাসী প্রলয় থেমে যাবে কিন্তু ভবিষ্যত প্রজন্ম জানতে চাইবে এই সময় কি হয়েছিল। এইসময়ের এই মহাপ্রলয়ংকরী মহামারীর ইতিহাস জানতে চাইবে। কি ছিল তার ধরন, তখন মানুষের জীবনে কি ঘটেছিল, কিভাবে তারা এই দীর্ঘ প্রলম্বিত বৈশ্বিক মহামারী পাড়ি দিয়ে ট্যানেলের শেষ প্রান্তে আলোচ্ছটায় উপনীত হয়েছিল, সেই সব সংকটময় স্বজন হারানোর বেদনাবিধুর ঘটনাপ্রবাহ জানতে চাইবে।
সেই চিন্তা থেকেই বৈশ্বিক মহামারীর অভিজ্ঞতাকে সম্বল করে বিভিন্ন লেখকের স্মৃতি, ঘটনাপ্রবাহ ইত্যাদিকে একত্রিত করে “করোনাকালের দিনগুলি” এবারের একুশে বইমেলায় বই আকারে প্রকাশিত হয়েছে। বইটির সার্বিক প্রকাশনার দায়িত্ব নিয়েছিলেন ”যুক্ত প্রকাশ”। এই বইটিতে নরওয়ে, বাংলাদেশ,ভারত,যুক্তরাষ্ট্র,যুক্তরাজ্য সহ মোট পাচটি দেশের বাংলা ভাষাভাষী লেখকদের লেখা গল্প,করোনাকালীন অভিজ্ঞতা, কবিতা প্রকাশ পেয়েছে। এমন একটি বই প্রকাশের চিন্তা যে মানুষটির কাছ থেকে এসেছে তিনি সবার প্রিয় আমাদের নয়ন হাফিজ ভাই।
গুরুত্বপূর্ণ এই বইটি আপনার সংগ্রহে রাখুন।
স্কারবোরো, অন্টারিও, কানাডা
