প্রতিহিংসার শেষ কোথায়?

মাসুদুল হাসান রনি

ফেসবুকে ছবিটি দেখে মন ভেঙে গেল।  গত এক বছর কারাগারে আটক থেকে বারাকাত স্যার রোগভোগে জীর্ণশীর্ণ হয়ে পড়েছেন।একদমই ভেঙে গিয়েছেন। আমরা যারা তাকে খুব কাছ হতে দেখেছি, তারা স্যারের এই চেহারা দেখে আঁতকে উঠবেন। বিনা বিচারে আটক অসুস্থ আবুল বারাকাত স্যারের মুক্তি চাই।

​ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক,  বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বারাকাত গত বছরের জুন মাস থেকে কারাবন্দী। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে অনেক রাজনৈতিক মামলার ভিড়ে তাকেও একটি হত্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে, যা স্পষ্টতই প্রতিহিংসামূলক। গ্রেফতারের পর থেকেই আমি যে ক’জন ব্যক্তির মুক্তি ও ন্যায়বিচার নিয়ে সরব হয়েছি, বারাকাত স্যার তাদের মধ্যে অন্যতম।

- Advertisement -

​একটি নির্দিষ্ট মামলার উদাহরণ দিলে বিষয়টি পরিষ্কার হয়। যে মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সেখানে মোট ২৬ জন আসামির মধ্যে তার অবস্থান ১৩ নম্বরে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই মামলার বাকি আসামিরা জামিন পেয়ে ইতিমধ্যে ঘরে ফিরেছেন, অথচ দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও স্যারের জামিন হচ্ছে না। প্রশ্ন জাগে, এই বৈষম্যের কারণ কী?

​এর পেছনে গভীর রাজনৈতিক সমীকরণ দৃশ্যমান। আবুল বারাকাত তার গবেষণায় ‘মৌলবাদের অর্থনীতি’ নিয়ে বিস্তারিত কাজ করেছেন, যা একটি বিশেষ গোষ্ঠীর জন্য অস্বস্তির কারণ। বর্তমানে বিচার বিভাগের বিভিন্ন স্তরে যে প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তাতে মনে হয় জামাত-শিবিরের মতাদর্শের মানুষেরাই স্যারের জামিন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। জামিনযোগ্য মামলায় দীর্ঘকাল আটকে রাখা কোনোভাবেই স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়া হতে পারে না।

​ইতিহাস সাক্ষী, ক্ষমতার দাপটে অন্ধ হয়ে যারা ফ্যাসিস্ট কায়দায় ভিন্নমত দমন করতে চায়, তাদের পরিণতি কখনো শুভ হয় না। আওয়ামী লীগের পতনের পর যদি নতুন করে কেউ সেই একই পথে হাঁটে, তবে তাদেরও একই পরিণতির কথা ভেবে রাখা উচিত।

এ ভয় কি আপনাদের একটুও নেই?

মন্ট্রিয়ল, কানাডা

- Advertisement -

Read More

Recent