টরন্টোতে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Participants in a colorful street parade, with one man in orange attire speaking into a microphone while others crowd around him.
আনন্দমুখর উদ্দীপনায় শত সহস্র মানুষ বৈশাখের আবাহনী গান গেয়ে উচ্ছ্বাসে নেচে নেচে উদযাপন করেছেন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের সর্বজনীন মঙ্গল শোভাযাত্রা

এই তো আমাদের টরন্টো। আনন্দমুখর উদ্দীপনায় শত-সহস্র মানুষ বৈশাখের আবাহনী গান গেয়ে, উচ্ছ্বাসে নেচে নেচে উদযাপন করেছেন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের সর্বজনীন মঙ্গল শোভাযাত্রা।

আর্ট কোয়েস্টের বন্ধুরা নান্দনিক মোটিফ বানিয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রাকে রঙিন করে তুলেছেন। ঢাকার মঙ্গল শোভাযাত্রার আমেজ এনে দিচ্ছেন। আর্ট কোয়েস্টের বন্ধুদের অনেক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

- Advertisement -

দল থাকবে, মত থাকবে, ধর্ম থাকবে, বর্ণ থাকবে, নিজ দলের মধ্যেও আবার উপদল থাকবে। এমনকি আপন ভাই-বোনের মধ্যেও দ্বিমতের তীব্রতায় পরস্পরের সম্পর্কে শীতলতা আসবে। মুখ দেখাদেখিও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। হয়৷ হচ্ছে। কিন্তু, কীভাবে অস্বীকার করা যাবে যে, তারা একই মায়ের সন্তান! আজকের দুই ভাই-বোনের ভুল বুঝাবুঝির সুযোগে যদি আমরা কানকথা দিয়ে যে কোন একজনকে উস্কে দেই, তাহলে তারাই এক সময় আপন মায়ের শিয়রের পাশে বসে একে অন্যকে এই উস্কানিমূলক বিষয়গুলোই পরস্পরকে বিনিময় করবে৷ মা দুহাত দিয়ে দুই সন্তানকে বুকে টেনে নিয়ে সন্তানদ্বয়কে বলবেন – ‘মা বেঁচে থাকতে তোমরা আর কোনদিন একে অন্যের বিরুদ্ধাচারণ করবে না, কথা দাও! দিব্যি দিয়ে বলো।’

জন্মভূমি জননীও তো মায়ের মতোই।

আমি খুব আশাবাদী, খুব ইতিবাচক। কেননা, যে দেশের ভাষা বাংলা। যে ভাষায় মানুষের জন্য, হ্যাঁ ধর্ম, বর্ণ, জাত-বেজাত, নারীপুরুষ লিঙ্গভেদ ভুলে মানুষের জন্যই গান বাধেন লালন সাঁই, যে ভাষায় মানুষের হৃদয়ের গভীরতম অনুভূতির ভালোবাসার গান বাধেন রবীন্দ্রনাথ, যে ভাষায় সারাবিশ্বের মানুষের প্রেম-অসাম্প্রদায়িক ভাবনার গান বাধেন নজরুল, যে ভাষার মর্যাদা ও সম্মান রক্ষার জন্য অকাতরে প্রাণ উৎসর্গ করেন তাজা তরুণ প্রাণ, যে ভাষার একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য তিরিশ লক্ষ মানুষের রক্তনদী বহে যায় প্রতিটি বিবেকবান মানুষের প্রাণে, সেই দেশ ও দেশের মানুষ সারা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেবে মানবিকতার সর্বশ্রেষ্ঠ মন্ত্র অসাম্প্রদায়িক ধর্মনিরপেক্ষতা মন্ত্রের যাদুতে। যে দেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যে দেশকে বন্দনা করে সকল দেশের সেরা রানী বলে সম্বোধন করেন কবি দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, সেই দেশেরই মানুষ আমরা। আমাদের গর্বের সীমা নেই। আমরা হারতে পারি না। আমরা হারি না। আচমকা ঝড়ো বাতাসের তাণ্ডবে আমাদের দেশমন্ত্রের দৃঢ় বন্ধনের শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা সবুজ বৃক্ষের শাখাপ্রশাখায় আঘাত লেগেছে। পাতাসমেত দু’একটা ডালপালা ভেঙ্গে পড়েছে ঠিকই হয়তো৷ কিন্তু আকাশ পানে উঁচু মাথা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সবুজ শক্ত বৃক্ষটি। আমরা এর ছায়াতলে ক্লান্তি দূর করে জিরোবো। আবার প্রাণশক্তিপূর্ণ উদ্দীপনা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বো আগাছা নিড়ানিতে। তারপর ফুলে ফলে ভরে ওঠবে আমাদের সবুজ বৃক্ষের প্রতিটি শাখাপ্রশাখা। টরন্টোয় নববর্ষের সর্বজনীন মঙ্গল শোভাযাত্রা উদযাপনের মাধ্যমে আমরা সবাই এই আনন্দ, উচ্ছ্বাস ও ভালোবাসাই ছড়িয়ে দিতে চাই। অতীতে তাই হয়েছে। ভবিষ্যতেও হবে।

১৪৩৩ বঙ্গাব্দের শুভেচ্ছা সবাইকে। শুভ হোক। কল্যাণ হোক। ভেদাভেদ দূর হোক৷ ভিন্নমত, অন্যমত সহ্য করার সহনশীলতা আসুক আমাদের সবার মনেপ্রাণে। ওম!

জয় বাংলা।

- Advertisement -

Read More

Recent