
জেট ফুয়েলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি বৈশ্বিক বিমান পরিবহন খাতে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় কানাডার আরেকটি বড় এয়ারলাইন ট্রানসাট এ.টি. ইনকর্পোরেশন তাদের ফ্লাইট সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কোম্পানিটির সহযোগী এয়ারলাইন এয়ার ট্রানসাট জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানি সরবরাহে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে তাদের পরিচালন ব্যয়ের ওপর।
কোম্পানির সাম্প্রতিক ঘোষণায় বলা হয়েছে, মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়কালে মোট ফ্লাইটের প্রায় ৬ শতাংশ কমানো হবে। এই সময়টি সাধারণত গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণের শীর্ষ মৌসুম হিসেবে পরিচিত, ফলে এই সিদ্ধান্ত যাত্রীদের ওপরও প্রভাব ফেলবে। প্রায় এক হাজার ফ্লাইট বাতিল বা পুনর্গঠন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে ইউরোপ ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের কিছু রুটে ফ্লাইট সংখ্যা কমানো হবে। একই সঙ্গে কিউবার ক্ষেত্রে একটি বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি-সংক্রান্ত বিধিনিষেধের প্রেক্ষাপটে অক্টোবর পর্যন্ত কিউবাগামী সব ফ্লাইট স্থগিত রাখা হবে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০ জুন পর্যন্ত কিউবার চারটি গন্তব্যে ১২৯টি ফ্লাইট নির্ধারিত ছিল।
ফ্লাইট কমানোর পাশাপাশি কোম্পানিটি তাদের রুট নেটওয়ার্কেও পরিবর্তন আনছে। টরন্টো থেকে ঘানার আক্রা পর্যন্ত নতুন যে রুট চালুর পরিকল্পনা ছিল, তা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া মন্ট্রিয়ল থেকে মেক্সিকোর গুয়াদালাজারার মধ্যে পরিষেবাও কমিয়ে আনা হচ্ছে। এই পদক্ষেপগুলো মূলত খরচ নিয়ন্ত্রণ ও কম লাভজনক রুট থেকে সরে আসার কৌশলের অংশ।
কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অনীক গুয়েরার্ড জানিয়েছেন, উড়োজাহাজের জ্বালানি দামের অস্থিরতা বর্তমানে এক “অস্বাভাবিক পরিস্থিতি” তৈরি করেছে। তার মতে, এই সংকট কেবল একটি কোম্পানির নয়, বরং পুরো বিমান শিল্পের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অপারেটিং খরচ বেড়ে যাওয়ায় এয়ারলাইনগুলোকে তাদের কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে হচ্ছে।
শুধু ট্রানসাট নয়, অন্যান্য বড় এয়ারলাইনগুলোও একই ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। কানাডার Air Canada এবং WestJet ইতোমধ্যেই তাদের সক্ষমতা কমিয়েছে। ইউরোপে লুফথানসা ঘোষণা করেছে যে, তারা গ্রীষ্মকালে প্রায় ২০ হাজার স্বল্প দূরত্বের ফ্লাইট বাতিল করবে।
একইভাবে কেএলএম-ফ্রান্স এবং ডেল্টা এয়ার লাইন্স সহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনগুলোও ফ্লাইট কমানো বা টিকিটের মূল্য বাড়ানোর পথে হাঁটছে। এর ফলে অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা শেষ পর্যন্ত যাত্রীদের ওপরই বর্তাচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতি থেকে স্পষ্ট যে, জেট ফুয়েলের মূল্যবৃদ্ধি কেবল সাময়িক সমস্যা নয় এটি দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। এয়ারলাইনগুলো এখন তাদের বহরে পুরোনো ও কম জ্বালানিদক্ষ বিমান কম ব্যবহার করছে এবং লাভজনক নয় এমন রুটগুলো থেকে সরে আসছে। ফলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ আরও ব্যয়বহুল ও সীমিত হয়ে যেতে পারে।
বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা বিমান খাতকে একটি কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে যেখানে টিকে থাকতে হলে খরচ কমানো, রুট পুনর্বিন্যাস এবং কৌশলগত পরিবর্তন এখন আর বিকল্প নয়, বরং অপরিহার্য।
