
কানাডার ফেডারেল হুইসেলব্লোয়ার সুরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে সাম্প্রতিক এক পর্যালোচনা প্রতিবেদনে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষ করে, সরকারি অনিয়ম বা দুর্নীতির বিরুদ্ধে মুখ খোলার ক্ষেত্রে বর্তমান আইনি কাঠামো কর্মীদের মধ্যে ভীতি তৈরি করছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে, সামরিক বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মীদেরও এই আইনের আওতায় এনে সুরক্ষা দেওয়ার জোরালো সুপারিশ করা হয়েছে।
বর্তমানে কার্যকর থাকা পাবলিক সার্ভেন্ট ডিসক্লোজার প্রোটেকশন অ্যাক্ট অনুযায়ী, ফেডারেল সরকারি কর্মচারীরা অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ পাবলিক সেক্টর ইন্টিগ্রিটি কমিশনারের কাছে আনতে পারেন। ২০০৭ সালে প্রণীত এই আইনটি তাত্ত্বিকভাবে সরকারি ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত। তবে বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন বলে উঠে এসেছে সাম্প্রতিক পর্যালোচনায়।
প্রতিবেদনে প্রায় তিন ডজন সুপারিশ করা হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রথমবারের মতো কানাডার সশস্ত্র বাহিনী, কানাডিয়ান গোয়েন্দা সংস্থা এবং কমিউনিকেশন্স সিকিউরিটি এস্টাবলিশমেন্ট কানাডার সাইবারস্পাই সংস্থার মতো সংস্থাগুলোকে এই আইনের আওতায় আনা। বর্তমানে এই সংস্থাগুলো আইনের বাইরে থেকে নিজস্ব অভ্যন্তরীণ রিপোর্টিং ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে।
সরকারি পক্ষ থেকে এতদিন যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, জাতীয় নিরাপত্তার সংবেদনশীলতা এবং সশস্ত্র বাহিনীর অনন্য চেইন অব কমান্ড কাঠামোর কারণে এই সংস্থাগুলোকে আইনের বাইরে রাখা প্রয়োজন। তবে পর্যালোচনাকারী টাস্ক ফোর্স এই যুক্তিকে গ্রহণযোগ্য বলে মনে করেনি। তাদের মতে, কোনো ফেডারেল সংস্থাকে জবাবদিহিতার কাঠামোর বাইরে রাখা নীতিগতভাবে সঠিক নয় এবং এটি স্বচ্ছতা বাধাগ্রস্ত করে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বর্তমান ব্যবস্থায় হুইসেলব্লোয়ারদের জন্য কার্যকর সুরক্ষা নেই। অনেক ক্ষেত্রে কর্মচারীরা প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থার আশঙ্কায় অভিযোগ করতে সাহস পান না। ফলে, অনিয়ম বা দুর্নীতির ঘটনা অনেক সময় চাপা পড়ে যায়।
এই প্রেক্ষাপটে, টাস্ক ফোর্স দ্রুত আইন সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, একটি শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং নিরাপদ হুইসেলব্লোয়ার সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। এতে শুধু সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতা বাড়বে না, বরং জনসাধারণের আস্থাও পুনর্গঠিত হবে।
এই পর্যালোচনা কানাডার প্রশাসনিক কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। এখন দেখার বিষয়, সরকার কত দ্রুত এবং কার্যকরভাবে এই সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়।
