
সেই মুহূর্তটির কথা মনে পড়ছে। এজাক্সের এক অডিটোরিয়ামে প্রায় পাঁচশো জন বাঙালি শ্রোতাদর্শক।
অধীর আগ্রহে মঞ্চের দিকে তাকানো সবাই। সহসা সুললিত কণ্ঠে সবাইকে স্বাগত জানিয়ে উপস্থাপনায় আসলেন আমাদের প্রিয়জন সহেলী শারমিন ফারিয়া। ফারিয়ার আহবানে মঞ্চে আসন গ্রহণ করলেন দেশবরেণ্য রূপতনু শর্মা, রনি পালমার, জন মার্টিন, জ্যাকব, পঙ্কজ মিশ্রা, ঝলক দেব চৌধুরী ও জয় সরকার। অতঃপর শিল্পী অমিত শুভ্র রায়। অমিতদা মান্না দেকে স্মরণ করলেন। স্মরণ করলেন পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় ও সত্যজিৎ রায়কেও। এঁদের জন্মদিনের কথাটিও জানিয়ে দিলেন সবাইকে৷ বললেন মান্না দের সঙ্গে তাঁর স্মৃতির কথাও।
তারপর শুধু হলো গান। মান্না দের গান দিয়েই শুরু। তারপর হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, তালাত মাহমুদ, শ্যামল মিত্র, কিশোর কুমারের গান। মান্না দের নিজের সুর, মান্না দের ভাই প্রভাস দের সুর, নচিকেতা ঘোষের সুর, অনিল বাগচি সুর করা, গৌরিপ্রসন্ন মজুমদার, পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়, জহর মজুমদার প্রমুখের লেখা গান।
গান পরিবেশনার এক পর্যায়ে শিল্পী অমিত রায় গাইতে লাগলেন- নিখিলেষ প্যারিসে, মঈদুল ঢাকাতে, পাগলা গারদে আছে রমা রায়/ কাকে যেন ভালোবেসে, আঘাত পেয়ে যে শেষে / জীবন করেনি তাকে ক্ষমা হায়….’ তারপর অডিটোরিয়ামের অধিকাংশ শ্রোতা সমস্বরে গাইতে গালগেন – ‘ কফি হাউজের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই, আজ আর নেই!’
শিল্পী সবাইকে উদ্বুদ্ধ করলেন তাঁর সঙ্গে গাইতে৷ সবাই
সোৎসাহে কোরাস কণ্ঠে গাইলেন – সবাই তো সুখি হতে চায়, তবে কেউ সুখি হয়, কেউ হয় না। / জানি না লোকে বলে সত্যি কি না / কপালে সবার নাকি সুখ সয় না / সবাই তো সুখি হতে চায় / অথবা, তোমাকে লেগেছে এতো যে ভালো / চাঁদ বুঝি তা জানে, চাঁদ বুঝি তা জানে!
অমিত শুভ্র রায় তার গানের আসরের প্রায় সবার সঙ্গেই একটি সংযোগ স্থাপন করেছিলেন। এই সংযোগ একজন শিল্পীর সঙ্গে গান শুনতে আসা স্রেফ শ্রোতাদর্শকদের নয়৷ এই সংযুক্তি তার অধিক। আন্তরিক। সুরের সুতোর বন্ধন! এটি কম্পিউটারের হিসেব বা বাটখারা দিয়ে নিক্তির ওজনের সীমাবন্ধতার উপরে। আমাদের সমকালীন দৈনন্দিন জীবনে প্রতিটি মানুষ যখন স্বাতন্ত্র্যবোধের যথেচ্ছাচার ব্যবহারে পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন প্রায়, তখন একজন শিল্পীর গানে শত শত মানুষ একই সুরের খেয়ায় ভেসে যেতে যেতে সমস্বরে গাইতে লাগলেন – তোমারে লেগেছে এতো যে ভালো, চাঁদ বুঝি তা জানে…..’। বাহিরে সত্যি সত্যিই আকাশে পূর্ণ চাঁদ! মানুষের উদ্বেলিত হৃদয়চিত্ত পূর্ণ হয়ে ভরে ওঠেছে প্রেমের নির্মল আবেগে। ভালোবাসার জন্য জীবন তুচ্ছ করার পাগলপারা উন্মাদনার সংকল্পে৷ সুরের শক্তি তো এখানেই!
অমিত শুভ্র রায়, তাঁর অসাধারণ সহশিল্পীবৃন্দ ও টিমের সবাইকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা, অভিনন্দন ও ভালোবাসা এতো এতো মানুষকে ভালোবাসার সাম্পানে ভাসিয়েছেন বলে। জয়তু অমিত শুভ্র রায়। ওম!
টরন্টো, কানাডা

