ওজেম্পিকের দ্বিতীয় জেনেরিক ভার্সন অনুমোদন

Two tall silver candle holders with glass bowls sit on a checkered tablecloth, a vase of pink flowers behind them—a decorative centerpiece.
কানাডায় বহুল আলোচিত ডায়াবেটিস ও ওজন কমানোর ওষুধ ওজেম্পিক এর দ্বিতীয় জেনেরিক সংস্কৃতির অনুমোদন দিয়েছে দেশটির ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা হেলথ কানাডা

কানাডায় বহুল আলোচিত ডায়াবেটিস ও ওজন কমানোর ওষুধ ‘ওজেম্পিক’-এর দ্বিতীয় জেনেরিক সংস্কৃতির অনুমোদন দিয়েছে দেশটির ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা হেলথ কানাডা। একই সঙ্গে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকও বটে, কারণ প্রথমবারের মতো একটি কানাডিয়ান কোম্পানি এই জেনেরিক সেমাগ্লুটাইড বাজারে আনছে।

টরন্টোভিত্তিক ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাপোটেক্স জানিয়েছে, তাদের তৈরি ‘অ্যাপো-সেমাগ্লুটাইড ইনজেকশন’ ফেডারেল অনুমোদন পেয়েছে। হেলথ কানাডা এ সপ্তাহে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, নিরাপত্তা, কার্যকারিতা ও উৎপাদনমান সংক্রান্ত সব শর্ত পূরণ হওয়ার পর ওষুধটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

- Advertisement -

এর ঠিক এক সপ্তাহ আগেই কানাডায় ইতিহাস তৈরি করে ভারতের ড. রেড্ডি’স ল্যাবোরেটরি। প্রতিষ্ঠানটির জমা দেওয়া জেনেরিক সেমাগ্লুটাইড অনুমোদন করে হেলথ কানাডা, যা ছিল দেশটিতে প্রথম অনুমোদিত জেনেরিক সেমাগ্লুটাইড। নতুন করে অ্যাপোটেক্সের অনুমোদনের ফলে কানাডার বাজারে এখন সেমাগ্লুটাইডের জেনেরিক প্রতিযোগিতা আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুটি অনুমোদন শুধু কানাডার ওষুধবাজারের জন্য নয়, বরং আন্তর্জাতিক ফার্মাসিউটিক্যাল অঙ্গনেও গুরুত্বপূর্ণ। জি৭ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে কানাডা এখন সেমাগ্লুটাইডের জেনেরিক সংস্করণ উন্মুক্ত করার ক্ষেত্রে অগ্রণী অবস্থানে চলে যাচ্ছে। এর ফলে উচ্চমূল্যের কারণে যারা এতদিন ওজেম্পিক কিনতে হিমশিম খাচ্ছিলেন, তাদের জন্যও স্বস্তির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

মূলত ড্যানিশ ওষুধ কোম্পানি নভো নরডিস্ক ‘ওজেম্পিক’ ব্র্যান্ড নামে সেমাগ্লুটাইড বাজারজাত করে আসছে। শুরুতে টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য ওষুধটি তৈরি করা হলেও পরবর্তীতে স্থূলতা বা ওজন নিয়ন্ত্রণে এর কার্যকারিতা ব্যাপক আলোচনায় আসে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, নিয়মিত ব্যবহারে রোগীদের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ওজন কমছে। এরপর থেকেই বিশ্বজুড়ে ওজেম্পিকের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যায়।

তবে চাহিদা বাড়লেও উৎপাদন সেই হারে বৃদ্ধি না পাওয়ায় বিভিন্ন দেশে ওজেম্পিকের সংকট দেখা দেয়। অনেক রোগী বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত খরচে ওষুধ সংগ্রহ করছেন। বিশেষ করে যেসব দেশে স্বাস্থ্যবিমা কাভারেজ সীমিত, সেখানে রোগীদের ব্যক্তিগত খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে। কানাডাতেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে জেনেরিক সংস্করণের অনুমোদনকে স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কানাডার জেনেরিক ওষুধশিল্পে অ্যাপোটেক্স দীর্ঘদিনের পরিচিত নাম। কোম্পানিটির দাবি, তারা প্রতি বছর প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি ডোজ ওষুধ উৎপাদন করে থাকে। কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও ভারতের উৎপাদন কেন্দ্র থেকে বিশ্বের ১১৫টিরও বেশি দেশে ওষুধ রপ্তানি করছে প্রতিষ্ঠানটি।

নতুন অনুমোদিত ‘অ্যাপো-সেমাগ্লুটাইড ইনজেকশন’ও মূল ব্র্যান্ড ওজেম্পিকের মতো সপ্তাহে একবার ব্যবহার করতে হবে। চিকিৎসকরা মনে করছেন, বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়লে ধীরে ধীরে ওষুধটির দাম কমতে পারে এবং আরও বেশি রোগী চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বব্যাপী ডায়াবেটিস ও স্থূলতার হার বাড়তে থাকায় সেমাগ্লুটাইড-ভিত্তিক ওষুধের বাজার আগামী কয়েক বছরে আরও বড় হবে। সেই বাজারে জেনেরিক কোম্পানিগুলোর প্রবেশ স্বাস্থ্যখাতের জন্য যেমন প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করবে, তেমনি রোগীদের জন্যও চিকিৎসা সহজলভ্য করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

- Advertisement -

Read More

Recent