নাগরিক হীনমন্যতা ও একজন আমীর হামজা

ছবিনিওন ব্রান্ড

মনে কি পড়ে, বছর দুই আগে রইসউদ্দীন নামে একজনকে সাহিত্যে স্বাধীনতা পুরস্কার দেয়া হয়েছিল। তখন আমাদের কবি, সাহিত্যিকরা রাগে ক্ষোভে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝাল ঝেড়েছিলেন।
এবছর বাংলা একাডেমী পুরস্কার দেয়া হলো ঢাকার বাহিরে থাকা সাহিত্যিক হোসেনউদ্দীনকে। এটা নিয়েও রাজধানী কেন্দ্রিক সাহিত্যিকরা বললেন, এ নামে কেউ লিখেন, তা জানতামই না!
দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কথা বাদ দিলাম, প্রশ্ন হচ্ছে,
রাজধানী কেন্দ্রিক হাজার হাজার লেখক, তাদের ক’জনকে আমরা চিনি,জানি?
সবাইকে চিনতে হবে, জানতে হবে কেন?
দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে হাজার হাজার কবি সাহিত্যিক রয়েছে। যারা স্থানীয়ভাবে অসম্ভব জনপ্রিয়। অনেকের লেখা রাজধানী কেন্দ্রিক হালুয়া রুটি খাওয়া, পুরস্কার নিয়ে দলাদলি, কামড়াকামড়ি করা লেখকদের চেয়ে শতগুনে ভাল। তারা হয়ত জাতীয়ভাবে পরিচিত নয়।তাই বলে কি সাহিত্য-সাংস্কৃতিক আন্দোলনে তাদের কোন অবদান নেই?
আপনি চেনেন না বলে তারা পরিতাজ্য,অপাংক্তেয়?
একজন মানুষ প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসে নিবিড়ভাবে সাহিত্যচর্চা করেছে , তাকে রাস্ট্র সম্মানিত করেছে।
এই লোক তো আপনাদের মতন দালালী, উপঢোকন, তেলবাজি করে পুরস্কার বাগিয়ে নেয়নি।
এই বিষয়টিকে আপনাদের সম্মান জানানো উচিত ছিল।
এই যে, তাকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষোদগার করছেন, মনে করি, তা হলো আপনাদের নাগরিক হীনমন্যতা।

মন্ট্রিয়ল, কানাডা

- Advertisement -

Read More

Recent