
মে মাসের ২ তারিখে Toogood Pond Park এ কাটানো কয়েক ঘণ্টা মেঘলা দুপুরের নরম আলোর ছটার মত মনে পড়ে যায়!
পুকুরের জলের ওপর গাছের পাতার নুয়ে পড়া ছায়ার দিকে তাকিয়ে খুব ভালো লেগেছিল।তাপমাত্রা বেশ কম ছিল,
হাঁটছিলাম আর কবিতার শব্দ বদলে বলছিলাম, “শীতকালে কবে যাবে সূপর্ণা?”
পার্কের পাশ ঘেঁষে থাকা মেইন স্ট্রিটটাও যেন ছবির মতো!ছোট ছোট রেস্টুরেন্ট, বুটিক, ক্যাফে!জানালার কাঁচে দুপুরের আলো লেগে ছিল।একটি জাপানিজ রেস্টুরেন্টে বসে গরম স্যূপ খেলাম আমি, আনিসা আর রিম।আর একটা খাবারের নাম মনে নেই।বাইরে তখন ঠান্ডা হাওয়া, আর হাতে ধোঁয়া ওঠা বাটি, আর কফির কাপ।মুহূর্তটা যেন নিঃশব্দ কোনো কবিতা হয়ে উঠেছিল!
Too Good Pond এর পাশ দিয়ে হাঁটার সময় একটি বক চোখে পড়ল। জলের ধারে সে একা দাঁড়িয়ে ছিলো!কী এক বিষণ্নতা এসে মন ছুঁয়ে গেল,মনে হলো, পাখিটারও বুঝি কোথাও ফেরার তাড়া নেই!
পার্ক এর সবুজের সমারোহে খুব বেশি হাঁটা হলো না! কারণ এখানে ঘুরতে হলে অনেক সময় নিয়ে যেতে হবে আর দিনটা হাঁটার জন্য উপযোগী ছিলো না!
আর্ট গ্যালারি খোলা ছিল।হঠাৎই ঢুঁ মারলাম আমরা।ভেতরে সবকিছু এত সুন্দর সাজানো গোছানো, যেন সময়কে খুব যত্ন করে সেখানে রেখে দেওয়া হয়েছে।পুরোনো দিনের গন্ধ, নীরব দেয়াল, কিছু ছবি!
সাদা কালো, রঙিন!
আর ধীরে হাঁটা কিছু মানুষ,সব মিলিয়ে এক শান্ত বিকেলের মুখোমুখি সময়!
১ মে এর সকালে আনিসা, রিম আর ওদের তিন ছেলে,সূর্য, অনিন্দ্য, সানন্দের সঙ্গে নাশতা করতে গিয়েছিলাম Chaiiwala তে।চায়ের কাপের টুংটাং,
পরোটা, ডিমভাজি আর খেতে খেতে হাসি গল্প! আপন মানুষদের উষ্ণতায় বিদেশের মাটিতেও ঘরোয়া এক সকাল নেমে এসেছিল। প্রিয় একটা পরিবারের মানুষদের সাথে দারুণ সময় কাটালাম।
কিছু কিছু দিন খুব সাধারণ হয়, তবু অদ্ভুতভাবে মনে থেকে যায়।এই কয়েক ঘণ্টাও তেমনই!
ঠান্ডা বাতাস, পুকুরের জল, এক বিষণ্ন বক, আর কাছের মানুষদের উষ্ণতায় মেশানো এক নরম সকাল বারবার মনে পড়ে যায়।বিশেষ করে নির্ঘুম রাতে!
অটোয়া, কানাডা

