নেহাল আমার দীর্ঘ দিনের বন্ধু। সেই নব্বই দশকের প্রথম দিকে তখন আমরা দুজনেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ব্যবসা প্রশাসন ইনষ্টিটিউটে (আইবিএ) পড়ার সুযোগ পেয়ে যাই। আমি, সামিনুর আর নেহাল ছিলাম স্টাডি পার্টনার। আমার তখন একটা লাল রঙের হোন্ডা সিভিক সীডান কার ছিল। এমন অনেক রজনী কেটেছে নির্ঘুম পড়াশোনা করে। আবার কখনো ফাঁক পেলেই মধ্যরাতে হোন্ডা সিভিকে চড়ে ঘুরে বেড়িয়েছি। তখন এতো বেশি ট্রাফিক ছিলো না। মধ্য রাতে রাস্তা প্রায় ফাঁকা। কখনো চাঙ্খার পুলের কাবাব, কখনো বুড়িগঙ্গা সেতুর ওপর বাতাস সেবন অথবা মোহাম্মদপুর বিহারী পল্লীতে বীফ চাপ চেখে দেখার মজা। রাস্তার পাশের দোকানে ওমলেট, পরোটা আর চায়ের পেয়ালা হাতে আড্ডা দিয়েছি। এইসব গল্প একদিনে বলে শেষ করা যাবে না।
পাশ করার পর দুইজন আবার কাকতালীয় ভাবে সুইজারল্যান্ডের বহুজাতিক ফুড কোম্পানি নেসলেতে কাজ করার সুযোগ পাই। তারপর নেহাল যোগ দেয় স্যান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংক এ আর আমি একটি জাপানি কোম্পানিতে। তারপর অনেক চড়াই উতরাই পেরিয়ে এখন সান্ধ্য কালীন ভ্রমণ সঙ্গী।
এই দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় নেহাল অনেকটা ছায়ার মতো লেগে ছিলো। এখনো আমরা ঘন্টার পর ঘন্টা আড্ডা দেই। সেন্সরবিহীন প্রান খোলা আলাপ। তবে সময়ের সাথে পট পরিবর্তন হয়েছে। এখন আর রাস্তার পাশের চায়ের দোকানে নয়, মনোরম কোনো ক্যাফেতে, ক্লাবে বা রেস্তোঁরায়। গত বছরের মাঝামাঝি প্যানডেমিকের প্রকোপে যখন গৃহবন্দী, আমরা ঠিক করি যে হোম অফিসের পর নিয়মিত হাঁটবো এবং সাইকেল চালাবো।
সেই আবার আগের দিনে ফিরে এলাম। ঘুরতে গেলাম পদ্মার পারে হিলশায়। অনেক দিন পর মেঘের দীর্ঘ ছায়ার ওপর দিয়ে এসে পড়েছে রোদ্দুর, নৌকায়। পদ্মা নদীতে নৌ বিহারের আনন্দই আলাদা।
দ্রষ্টব্য: নেহালের কাছে দীর্ধ দিনের একটা অনুযোগ আছে, সে আজ পর্যন্ত এক কাপ কফিও অফার করে নি। আমি নাকি বয়সে ওর থেকে সিনিওর এই জন্য সে কখনও বিল দিবে না। কিন্তু আমার গাড়ির ড্রাইভার প্রথম ওকে দেখে বলেছিল, স্যার, কিছু মনে কইরেন না, উনি যে আপনার বন্ধু এটা বিশ্বাস করা কঠিন। কারণ ওর তুলনায় আমি নাকি এখনও দেখতে অনেক কম বয়সী!! কিন্তু নেহাল তার এই খোঁড়া যুক্তি দিয়ে এখনও চালিয়ে যাচ্ছে।
পূনশ্চ: তৎকালীন অনিয়মিত ষ্টাডি পার্টনারদের তালিকা: আহসান শাখাওয়াত তোতা, জামি মোহাম্মদ খান, রওনক ইউনূস পলাশ, পবিত্র, সারিয়া সাদিক ভাই, কবীর ভাই, চয়ন দা, লস্কর ভাই এবং আরও অনেক সতীর্থ। এঁরা সকলেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে দিকপাল এবং নিজ গুনে দেদীপ্যমান। তোতা নিউ ইয়র্কে ব্যাংকার, জামি, আইটি আর অ্যাপারেল এক্সপার্ট (বিলাসী ব্যবসাদার), পলাশ ফার্মাসিস্ট, ঔষধ এবং কেমিক্যাল ব্যবসায় সফল উদ্যোক্তা, সারিয়া ভাই BASF এর সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক, চয়ন দা, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, পবিত্র, কানাডায় সফল ব্যাংক কর্মকর্তা, কবীর ভাই ফার্মাসিস্ট এবং সফল ব্যবসায়ী। আর নিয়মিত সহপাঠী সামিনুর এখন একটি নামকরা ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
এঁদের সকলের সান্নিধ্যে আমি সমৃদ্ধ।
খোলা ডায়েরি : স্টাডি পার্টনার
- Advertisement -

