ধর্ম এবং বিজ্ঞান যে যার অবস্থানে

ছবি চে ওউসা

ধর্ম আর বিজ্ঞান এক নয়। ধর্মের মধ্যে বিজ্ঞান কিংবা বিজ্ঞানের মধ্যে ধর্মকে খুজতে যাওয়া একেবারেই ঠিক নয়। ধর্ম বিজ্ঞান হলে সবাই বিজ্ঞান বাদ দিয়ে ধর্ম পড়তো,আবার বিজ্ঞান ধর্ম হলে সবাই ধর্ম বাদ দিয়ে বিজ্ঞান পড়তো।
ধর্মের মধ্যে বিজ্ঞানের কিছু বিষয় থাকতে পারে। সেটা শুধুমাত্র কিছু সাদৃশ্য ছাড়া আর কিছুই নয়। কিছু সাদৃশ্য দিয়ে সমগ্রকে একই কাতারে ফেলে বিচার করা ঠিক নয়। ধর্মকে মানুষের কাছে আরো গ্রহনযোগ্য করার জন্য বিজ্ঞানের সাথে সাদৃশ্য খুজে বেড়ানেরো বা দরকার কি?
ধর্ম এবং বিজ্ঞান যে যার অবস্থানে মহিমাম্বিত।
ধর্মে স্বর্গ, নরক, বেহেশত, দোজখ, পাপ,পূন্য, সোয়াব, গুনাহ,ইহকাল,পরকাল ইত্যাদি অসংখ্য বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে যা কখনোই বিজ্ঞানের বিষয় নয়। আবার বিজ্ঞানেও অসংখ্য বিষয় রয়েছে যা ধর্মের বিষয় হতে পারে না।।
ধর্মে যে ঈশ্বর বা সৃষ্টিকর্তার ধারণা দেওয়া হয়েছে তাতে উল্লেখ রয়েছে, ঈশ্বর বা সৃষ্টিকর্তার কোন শুরু নেই, কোন শেষও নেই। ঈশ্বর বা সৃষ্টিকর্তা সমগ্র সৃষ্টির আদি থেকেই ছিল এবং অনন্তকাল বিরামবিহীনভাবে অন্তহীনভাবে থাকবেন।তিনি আদি এবং অন্তহীন স্বত্ত্বা।
বিজ্ঞান ঈশ্বর বা সৃষ্টিকর্তার বিষয়ে একেবারেই নিশ্চুপ। বিজ্ঞান গবেষণালবন্ধ জ্ঞান এবং প্রমাণিত। ঈশ্বর বা সৃষ্টিকর্তা কোন প্রমাণের বিষয় নয় কিংবা তাকে গবেষণার মাধ্যমে প্রমান বা অপ্রমাণ করার কোন সুযোগ নেই। তাই বিজ্ঞান ঈশ্বরের বিষয়ে কিছুই বলে না। যে সব বিষয়ে বিজ্ঞান প্রমান, অপ্রমাণ কিছুই করতে পারে না সে সব বিষয়ে বিজ্ঞান একেবারেই নিরব।।
ধর্মের মধ্যে বিজ্ঞানকে খুজে পাওয়ার কিছু উদাহরণ দেওয়া যাতে পারে। এর মধ্যে বহুল প্রচলিত হচ্ছে, ইসলাম ধর্মে উল্লেখিত বোরাকের ধারনা থেকে স্পেস স্যাটেলের ধারনা এসেছে। এখন দেখা যাক হাদিসে বোরাক সম্পর্কে কি বলা আছেঃ
“তখন খচ্চর অপেক্ষা ছোট কিন্তু গাধা অপেক্ষা বড় একটি সাদা প্রাণী আমার কাছে আনলো।” … প্রাণীটি এতো দ্রুত পদক্ষেপ ফেললো যা কোনো প্রাণীর চোখে দেখা সম্ভব নায়। …”
— মোহাম্মদ আল-বুখারী, সহী আল-বুখারী[১]
অপর একটি বর্ণনায় “বোরাক”:
তখন জিবরাইল আমার নিকটে বোরাক-কে আনলো, সুন্দর মুখমন্ডল ও পশমের গাধা অপেক্ষা বড় কিন্ত খচ্চর অপেক্ষা ছোট লম্বা সাদা পশু।… এর লম্বা কান ছিলো।… এর দুটি পাখা ছিলো যা এর পা বরাবর লম্বা।…[২]”
উপরের বর্ননা থেকে বুঝা যায়, বোরাক একটি প্রানী। তাহলে প্রশ্ন করা যায়, স্পেস স্যাটেল একটি যান্ত্রিক কাঠামো এবং তা প্রানহীন জড় ছাড়া আর কিছুই নয়। তাহলে প্রানীর সাথে যন্ত্রের সম্পর্ক হয় কিভাবে? গতির ক্ষেত্রে একটি যুক্তি খাড়া করানোর চেষ্টা করা হয়েছে। বলা হচ্ছে, বোরাকের যে গতি তা থেকেই রকেটের গতির ধারণা পাওয়া গেছে। এই রকম বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়কে টেনে এনে মিল দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
বিজ্ঞানের সাথে মিল খোজার আরেকটি প্রচেষ্টা দেখা যায় রামায়ণে বর্নিত পুষ্পক রথের সাথে। একটু দেখা যাক পুষ্পক রথ কি বা এর কি বর্ননা রয়েছেঃ
‘রামায়ণের অরণ্য কান্ডে বর্ণিত আছে যে, ভিক্ষুকের ছদ্মবেশে লঙ্কাধিপতি রাবণ এসে সীতাকে হরণ করে পুষ্পক রথে করে আকাশ পথে পাড়ি দিয়েছিলেন লঙ্কায় । এই পুষ্পক রথ আগে ছিল রাবণের বৈমাত্রেয় জৈষ্ঠভ্রাতা, ধন ঐশ্বর্যের দেবতা, কুবেরের । কুবেরের কাছে থেকে তা ছিনিয়ে নেন রাবণ । রাবণ কে হত্যা করে সীতাকে উদ্ধার করে রামচন্দ্র ওই পুষ্পক বিমানে করেই ফিরে আসেন অযোধ্যা। রামায়ণের বর্ণিত পুষ্পক রথই না কী বিশ্বের প্রথম আকাশযান ।”
রকেটের ধারনা বিজ্ঞানীরা নাকি এখান থেকেই পেয়েছেন।
এই রকম আরো অসংখ্য উদাহরণ আছে যা দিয়ে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে, বিজ্ঞানের অনেক আবিষ্কার ধর্ম থেকে এসেছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, আবিষ্কারের পরেই কেবল এই মিলগুলি খুজে পাওয়া যায়। এর আগে নয়।
ধর্মতত্ত্ববিদরা আবিষ্কারের আগেই যদি ধর্মে কি কি আবিষ্কার লুকিয়ে আছে তার ব্যাখ্যা দিতে পারতেন তবে বিজ্ঞানীদের কাজ অনেক কমে যেতো। তাহলে তাদের আর এত গবেষণার প্রয়োজন পড়তো না। গবেষণার পেছনে এত বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারও খরচ হতো না। শুধু ধর্মগ্রন্থ পড়ে পড়ে বিজ্ঞানের সব আবিষ্কার হয়ে যেতো।
আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি ধর্ম এবং বিজ্ঞান দুটি ভিন্ন ভিন্ন বিষয়। ধর্ম সম্পূর্ণরূপেই বিশ্বাসের বিষয় আর বিজ্ঞান গবেষণা এবং প্রমানের বিষয়। একটির মধ্যে অন্যটিকে খুজতে যাওয়া বৃথা চেষ্টা মাত্র।

স্কারবোরো, অন্টারিও, কানাডা

- Advertisement -

Read More

Recent