
আজ নাকি কানাডায় ব্ল্যাক ফ্রাইডে। আমার তা মনে হয় না। ফ্রাইডেটা আমার কাছে আলো হয়ে আসে। সতেরই নভেম্বর থেকে শুধু আলো আর আলো। কোনো কালো নেই। সতেরই নভেম্বর সব মিলিয়ে হাজার খানেক শুভেচ্ছা পাই। জন্মদিনের শুভেচ্ছা। যদিও আমি জন্মদিন পালন করিনা বা করতে পারিনা। কিন্তু এ শুভেচ্ছা আমায় আনন্দের সাগরে ভাসিয়েছে।
সেদিন সকালে আমার বাসায় আসেন কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের একজন প্রাক্তন রাস্ট্রদুত। আজহার ভাইও। ছিলেন প্রায় দু’ঘন্টা। সাথে বেশ কিছু ফল নিয়ে আসেন। টরন্টোর নার্গিস আপা ছবির কেকটি পাঠিয়ে দিয়ে অবাক করে দেন। ডিপার্টমেন্টের ছোট বোন সোহেলিয়া নিয়ে আসে মজার তেহারী রান্না করে। জিনাত আপা দামি একটা শার্ট উপহার দেন। আরও কত কিছু।
প্রতি মাসে এভাবে টরন্টোয় মানুষের ভালবাসা পাই। কভিডের মধ্যে আশিক ভাই একদিন মিস্টি নিয়ে হাজির। জানতে চাইলাম কেনরে ভাই? আপনি অনেক হেল্প করেছেন। রাখলে খুশি হবো। অন্তরা উবার ইটসে মিস্টি পাঠিয়েছে নেদারল্যন্ডে বসে তাঁর চাকুরী হয়েছে বলে। ব্যারিস্টার ওয়াসিম ভাই এক ডিশ তেহারী নিয়ে কয়েকদিন আগে বাসায় হাজির হন। ডিপার্টমেন্টের আরেক ছোট বোন সুষমা অনেক খাবার রান্না করে নিয়ে আসে। সিমা গত দু’মাসেরও বেশি বাংলাদেশে সেজন্য। আসিফ ভাই নিয়ে আসেন এক বাক্স শীতের পিঠা। বোন, ভাতিজী, ভাতিজাসহ অনেক বন্ধু-বান্ধবের এরকম আর কত যে গিফট পাই তা লেখে শেষ করা যাবে না। ভালবাসার এরকম অসংখ্য নজির সত্যিই বিরল। এরপরও আমি আমার দিনগুলোকে ব্ল্যাক কীভাবে বলি?
হাঁ এটা ঠিক। আমি অন্যদের জন্মদিনের শুভেচ্ছা দেয়ার সময় পাইনা। রান্না করে দিয়ে আসা দূরে থাক একটা গিফটও দিতে পারিনা। সেজন্য খারাপ লাগে। কিন্তু সে দোষতো আমার। ফ্রাইডের নয়। প্রায় দু’বছর পর গত বুধবার আমার অফিসে যাই। টেবিলে একটা ডায়েরি, চকলেট, ব্যাগ, শুভেচ্ছা কার্ডসহ অনেক কিছু পাই। এগুলো ম্যানেজার আমাকে দিয়েছে। একটা ইমেল দিয়েছে আরেক কলিগ। জানিয়েছে ফেব্রুয়ারিতে আমাকে স্পেশাল গিফট দেবে এ প্রতিষ্ঠানে পাঁচ বছর পুর্ণ করার জন্য। আশা করছি সেদিও যেন শুক্রবার হয়। সাদা ফ্রাইডে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থ্যাঙ্কসগিভিং-এর পর শুক্রবারের ব্ল্যাক ফ্রাইডের মতো নয়। সতেরই নভেম্বর শুক্রবার যেদিন আমার জন্ম হয়েছিল, সেদিনের মতো সাদা ফ্রাইডে।
স্কারবোরো, কানাডা
