
রেনোভেশন স্ক্যামের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে টরন্টোর ২৩ বছর বয়সী এক বাসিন্দাকে গ্রেপ্তার করেছে পিল রিজিয়নাল পুলিশ। এই প্রতারণার খপ্পরে পড়ে গ্রাহকরা কয়েক হাজার ডলার খুইয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তদন্তকারীরা বলছেন, ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৩ সালের নভেম্বর পর্যন্ত পিল রিজিয়নের বাসিন্দারা টিআরটি ম্যাসনরি অ্যান্ড জেনারেল কন্ট্রাক্টিং নামে একটি কোম্পানির প্রতিনিধি পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তির সঙ্গে চুক্তি করেন এবং মোট ৩৭ হাজার ডলার তুলে দেন। কিন্তু চুক্তি স্বাক্ষর ও অর্থ হস্তান্তরের পর কোনো কাজ হয়নি।
এ ঘটনায় ১৬ মে পুলিশ ট্রিস্টান টারনোসিকে গ্রেপ্তার করে এবং তার বিরুদ্ধে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা ও অপরাধের মাধ্যমে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ দায়ের করে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ বলেছে, প্রতিটি ক্ষেত্রেই ট্রিস্টান টারনোসি সেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন, চুক্তি স্বাক্ষর করেন, অর্থ সংগ্রহ করেন এবং উল্লেখিত সেবা প্রদানে বা সংগৃহীত অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হন।
গত জানুয়ারিতে স্পিকারস কর্নারের প্রতিবেদনে উল্লেখিত বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলেছেন সিটিনিউজের প্যাট ট্যানে। জুবায়ের খান নামে একজন বলেন, প্রত্যেকের কাছেই মনে হচ্ছে আমরা বড় ধরনের প্রতারণার শিকার হয়েছি।
ইটোবিকোকে খানের একটি বাড়ি আছে এবং গত সেপ্টেম্বরে তিনি টারনোসির মালিকানাধীন টিআরটি ম্যাসনরি অ্যান্ড জেনারেল কন্ট্রাকিংয়ের সঙ্গে একটি চুক্তি করেন। খান তার বেজমেন্টটিকে লিভিং রুমে রূপান্তরিত করতে চেয়েছিলেন, যার সঙ্গে ব্যয় জড়িত ৬০ হাজার ডলার। তিনি বলেন, তার রেফারেন্সগুলো পরীক্ষা করি, তার পক্ষে ভালো রিভিউ ছিল এবং প্রকল্পটি শেষ করতে আমাদের যা প্রয়োজন সে সম্পর্কে তার জ্ঞান ছিল অবিশ্বাস্য।
স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী, অক্টোবরে কাজ শুরু হয়ে ছয় সপ্তাহের মধ্যে তা শেষ করার কথা ছিল। এজন্য তিনি অগ্রীম ২৪ হাজার ডলার জমা দেন। সিটিনিউজকে খান বলেন, কিন্তু দুঃখজনক হলো তিনি কিছুই করেননি। তিনি অর্থ নিয়েছেন কিন্তু কোনো কাজ করেননি।
প্রায় একই সময়ে টারনোসির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেন ফ্রান্সেস্কো ফেরো এবং ১৭ হাজার ডলার জমা দেন। তিনি ভনে তার বাড়ির অংবিশেষ সম্প্রসারণ ও কিছু ভেঙে ফেলা এবং কাঠামোগত কাজ করতে চেয়েছিলেন। ফেরো বলেন, তিনি এসেছিলেন এবং নমুনা কাজ করেছিলেন। কিন্তু যে কাঠামোগত কাজের জন্য আমরা তাকে নিযুক্ত করেছিলাম তাতে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।
সম্পাদিত কাজ পরিদর্শনের জন্য আরেকজন সাধারণ ঠিকাদারকে নিয়োগ দেওয়ার পর এই সমস্যা ধরা পড়ে। তিনি বলেন, কাজে বড় ধরনের সমস্যা ছিল এবং এ নিয়ে আমি টারনোসির সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি খুবই হতাশ হন। অন্য কেউ তার কাজ পরিদর্শন করুক এটা তার পছন্দ হয়নি। বাকি কাজ করার জন্য টারনোসি আর আসেননি এবং হাজারো ওজুহাত দেখাতে থাকেন। কখনো খারাপ আবহাওয়ার কথা কখনো আবার স্বাস্থ্য ভালো না থাকার কথা বলতে থাকেন।
