নৃত্য, সুর আর বৈচিত্র্যময় খাবারে মাতল হাজারো মানুষ

এই উৎসব শুধু খাবার বা সঙ্গীতের মিলনস্থলই নয় বরং টরন্টোর বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়ের এক জীবন্ত উদাহরণ হিসেবেও স্থান করেছে

টরন্টোর হৃদয়ে ন্যাথান ফিলিপস স্কয়ারে অনুষ্ঠিত হলো বহুল প্রতীক্ষিত উনিশতম প্যানআমেরিকান খাবার ও সঙ্গীত উৎসব, বা সংক্ষেপে প্যানাফেস্ট (PanaFest)। এই উৎসব শুধু খাবার বা সঙ্গীতের মিলনস্থলই নয়, বরং টরন্টোর বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়ের এক জীবন্ত উদাহরণ হিসেবেও স্থান করেছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এই দিনে প্রায় ৫০,০০০ দর্শক উৎসব উপভোগ করেছেন।

ফেস্টিভ্যালে অংশগ্রহণ করেছে ২০টিরও বেশি দেশ থেকে আগত ১০০টিরও বেশি খাবারের স্টল। মেক্সিকোর সুপরিচিত টাকোস, কিউবার ক্লাসিক স্যান্ডউইচ, ব্রাজিলের ফেইজোয়াদা, আর্জেন্টিনার এমপানাডা, পেরুর সেভিচে, কলম্বিয়ার আরেপাসসহ বিভিন্ন দেশীয় খাবারের সমাহার দর্শকদের মুখে স্বাদ এবং চোখে আনন্দ বয়ে দিয়েছে। আয়োজকরা জানিয়েছে, খাদ্য ও পানীয় বিক্রির মাধ্যমে আনুমানিক ৭ মিলিয়ন কানাডিয়ান ডলারের ব্যবসা হয়েছে, যা স্থানীয় রেস্তোরাঁ ও ফুড ট্রাক মালিকদের জন্য বছরের অন্যতম বড় সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

- Advertisement -

খাদ্যের পাশাপাশি, সাংস্কৃতিক পরিবেশনার দিক থেকেও উৎসবটি ছিল অসাধারণ। প্রায় ২০০ জন শিল্পী সালসা, মেরেঙ্গে, সাম্বা, বাচাতা এবং রেগেটনের মতো জনপ্রিয় লাতিন সঙ্গীত পরিবেশন করেছেন। প্রধান মঞ্চে একসঙ্গে ১৫টি ব্যান্ড ও নৃত্যদলের পরিবেশনা শহরের দর্শকদের জন্য এক অদ্বিতীয় অভিজ্ঞতা হিসেবে ধরা দিয়েছে। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ছিল ব্রাজিলীয় কার্নিভাল থিমে সাজানো নৃত্য পরিবেশনা, যা শহরের রঙিন এবং প্রাণবন্ত নান্দনিকতা আরও ভিন্ন মাত্রায় তুলে ধরেছে। শিশুদের জন্যও উৎসবে বিশেষ সাংস্কৃতিক কর্মশালা আয়োজন করা হয়েছিল, যেখানে তারা লাতিন আমেরিকার ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র শেখার সুযোগ পেয়েছে।

টরন্টো সিটি কাউন্সিলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই উৎসব স্থানীয় অর্থনীতিতে প্রায় ১০ মিলিয়ন ডলারের প্রভাব ফেলেছে। হোটেল, পরিবহন, খুচরা বিক্রেতাদের আয়ে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। বিশেষ করে বিদেশি পর্যটকদের উপস্থিতি শহরের পর্যটন খাতকে সমৃদ্ধ করেছে, যা ভবিষ্যতে আরও আন্তর্জাতিক পর্যটক আকর্ষণের জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সংস্কৃতিবিদরা মনে করছেন, প্যানআমেরিকান খাবার ও সঙ্গীত উৎসব টরন্টোর বহুসাংস্কৃতিক চিত্রকে আরও জোরালোভাবে ফুটিয়ে তোলে। প্রবাসী লাতিন কমিউনিটির জন্য এটি গর্বের অনুষ্ঠান হলেও শহরের মূলধারার মানুষদের কাছে লাতিন আমেরিকার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার বড় সুযোগ।

একজন দর্শক দিমা নেফারদিতি এই প্রতিবেদককে বলেন, উনিশতম প্যানাফেস্ট টরন্টোর জন্য ছিল এক জীবন্ত বৈচিত্র্যের উদযাপন। লাতিন আমেরিকান খাবারের সুগন্ধ, সঙ্গীতের মাধুর্য এবং নৃত্যের রঙিন ঝলক এক দিনের জন্য পুরো শহরকে পরিণত করেছে একটি প্রাণবন্ত, বহুজাতিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে।

- Advertisement -

Read More

Recent