
লেখক আর রাজনীতিক এক নয়।
রাজনীতিবিদের রিএকশন বা প্রতিক্রিয়া হয় তাৎক্ষণিক।
লেখকের ক্ষেত্রে সেটা কখনো কখনো হলেও, সব সময় হয় না।
অভাবনীয় নৃশংসতার ট্রমা থেকে বেরিয়ে আসতেও সময় লাগে কখনো কখনো।
যে কোনো মৃত্যুই বেদনার। শোকের। কোনো মৃত্যুই কাম্য নয়।
ইতোমধ্যে সরকারি হিশেবে দেড়শো এবং বেসরকারি হিশেবে দুইশোর অধিক প্রাণ ঝরে গেছে।
নিহতের তালিকায় অনেক শিশুকিশোরও রয়েছে!
বাড়ির ছাদে, বারান্দায় কিংবা ঘরের ভেতরে থাকা বাচ্চাগুলোও শিকার হয়েছে সহিংসতার!
বড়দের একটি আন্দোলনে ছোটরা কেনো টার্গেট হবে!
নিষ্পাপ ছোট ছোট শিশুরা কেনো শিকার হবে হত্যাকাণ্ডের!
একজন শিশুসাহিত্যিক হিশেবে আমি স্তম্ভিত, শোকার্ত।
লেখক হিশেবে বাংলা-বাঙালি-বঙ্গবন্ধু-বাংলাদেশ-মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা এই ছয়টি প্রশ্নে আমার দৃঢ় অবস্থানের বিষয়টি কারো অজানা নয়।
মাত্র কয়েকদিনে এতো এতো মৃত্যু দেখে বিষন্ন বিহবল ও বিপন্ন আমি। এইরকম দুঃখের দিন কষ্টের দিন বেদনার দিন নিকট অতীতে আসেনি। বাংলাদেশের এই দুঃসময়ে ছড়া লিখতে গেলে যে মানসিক স্থিরতা ও মনোসংযোগ প্রয়োজন সেটা আমার নেই এই মুহূর্তে। মানুষ হিশেবে এটা যে আমার একটা দুর্বলতা সেটা মানতেও দ্বিধা নেই কোনো।
আমি আমার সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতাটাকে অস্বীকার করি না।
বাংলাদেশের এখন চরম দুঃসময়। সারাটা জীবন আমি ছোটদের জন্যেই লেখালেখি করেছি। এরকম নির্মম হৃদয় বিদারক ঘটনা নিয়ে ছড়া লেখা আমার জন্যে অসহনীয় বেদনার।
শিশু হত্যার প্রতিবাদে ছোটদের একজন লেখক-ছড়াকার হিশেবে আমার আজকের ছড়াপ্রচেষ্টা–
শিশুর প্রতি নৃশংসতায় বেদনা আপ্লুত
লুৎফর রহমান রিটন
শিশু হত্যার নৃশংসতায় অবাক চেয়ে রই…
ছোট্ট খুদে প্রাণের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী হই…
শিশুর প্রতি নৃশংসতায় বেদনা আপ্লুত
হত্যাকারী শনাক্ত হোক শনাক্ত হোক দ্রুত…
শিশুহত্যা পাপ
ছোট্ট শিশুর হত্যাকারী তোদের অভিশাপ……
অটোয়া, কানাডা
