
বাংলাদেশের ব্যাংক লুট করে অসংখ্য দুর্নীতিবাজ যখন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পালিয়ে যাচ্ছিল, তখন দেশের শীর্ষ পত্রিকায় এদের খবর ছাপা হতো। কানাডায়ও দুর্নীতিবাজদের একাংশ আছে জেনে আমরা লুটেরা বিরোধী আন্দোলন গড়ে তুললাম। টরন্টোর এই আন্দোলনের ঢেউ পৃথিবীর বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়লো। এমনকি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদেও এই নিয়ে আলোচনা হলো। কিন্তু দুঃখের বিষয় একজন ব্যাংক লুটেরা দুর্নীতিবাজকেও সরকার ধরে বিচার করে লুটকৃত অর্থ ফেরত নিয়ে শাস্তি দিতে পারেন নি!
প্রচার করা হলো এই আন্দোলন কোন এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। না, সেই আন্দোলন কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ছিল না। ছিল সুনির্দিষ্টভাবে ব্যাংক লুটেরাদের বিরুদ্ধে। এমনকি আন্দোলকারী হিসেবে উল্টো আমরা কয়েকজন উকিল নোটিশ পেলাম!
আমার অনেক বন্ধু শেয়ার বাজারে অর্থ লগ্নি করে লাভ করেন, অথবা যৎসামান্য লোকসানও মেনে নেন। কিন্তু একেবারে সর্বস্ব হারাতে হয়, এমন হয়নি এখানে। বাংলাদেশে এক সময় শেয়ার বাজারে অর্থ লগ্নির হিড়িক পড়ে যায়৷ লাভও করেন অনেকে৷ এটাই তো ব্যবসার স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতি। কিন্তু একেবারে সর্বস্ব লোকসান হয়ে যায়, এমন হয়নি অন্য কোথাও। যা বাংলাদেশে হয়েছিল। মানুষ দু’একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিকে ঈঙ্গিত করে সরকারের কাছে বিচারের দাবী জানালে সরকার তার সুষ্ঠু বিচার করে এই সর্বস্ব হারানো জনগণের প্রতি ‘নেতার চেয়ে জনগণের ন্যায্য পাওনা বড়’ প্রমাণ করতে পারেননি।
চাকুরী ক্ষেত্রে বা অন্যান্য যে কোন জনগণ নাগরিক অধিকার বা প্রাপ্য ক্ষেত্রে মেধার ভিত্তিতে নয়, বরং নিজ দলের প্রাধান্যকেও মানুষকে অতিষ্ঠ করে তুলেছিল।
বাংলাদেশকে স্বাধীনতার আন্দোলনের দিকে নিয়ে যাওয়া, মুক্তিযুদ্ধের কঠিন সময়ে যুদ্ধকে পরিচালনা করার সময়ে সবার কাছে এক অবিসংবাদিত নেতার প্রেরণায় দেশমাতৃকাকে শত্রুমুক্ত করার সংকল্পবদ্ধ জাতীয় নেতাদের প্রাপ্য সম্মানকে অবহেলা করার বিষয়টিও মানুষ হীনমন্যতা হিসেবেই বিবেচনা করেছেন।
এইসব কি জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে নি! আগামীতে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতৃত্ব এইসব বিষয়কে ক্ষমাহীন ব্যর্থতা স্বীকার করে দেশের মানুষকে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দেবেন, এই আশা করি।
বাংলাদেশের মানুষ দেশকে ভালোবাসেন নিঃসন্দেহে। মানুষকে সততা, দলের চেয়ে দেশ, ভিন্নমত ও দল ব্যতিরেকে দেশের আপামর মানুষকে সম্মান শ্রদ্ধা ও মমত্ববোধ চর্চার দায়িত্ব রাজনৈতিক নেতৃত্বের। ভিন্ন দল ও মতের প্রতি দ্বিমত প্রকাশের ভাষাও চাই শালীন ও মার্জিত। শুধু বিগত সরকার বা দলের ব্যর্থতার ফিরিস্তি বর্ণনাই নয়, জনগণ জানতে চায় দেশকে নিয়ে দায়িত্বশীল সরকারের আগামীদিনের স্বপ্ন ও তা বাস্তবায়নের সুষ্ঠু পরিকল্পনা।
বাংলাদেশের জয় হোক। সারাবিশ্বে মানবকল্যাণের দৃষ্টান্ত হোক অগণিত শহীদের রক্তে ভেজা মহান মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত বাংলাদেশের নাম। জয় বাংলা।
টরন্টো, কানাডা
