
এখন ফেসবুকে মুক্তিযুদ্ধ,জাতীয় সংগীত, জাতীয় পতাকা ; এই সবের বিরোধিতাকারীদের বিরুদ্ধে কিছু লেখলে দুই ধরনের ট্যাগ দেওয়া হবে :
১) আনসার লীগ, রিক্সা লীগ, চিকিৎসক লীগ, শ্রমিক লীগ ইত্যাদির মতো আপনার ফেসবুক পোস্টটিও মুক্তিযুদ্ধ লীগ, জাতীয় পতাকা লীগ, জাতীয় সংগীত লীগ হয়ে বাংলাদেশের মাটিতে ফিরে এসেছে 🤣
২) আপনার পোস্টটিকে বলা হবে আগষ্টের রক্তাক্ত বিপ্লবের অর্জনকে নৎসাত করার জন্য এই সব পোস্ট দেওয়া হয়েছে 🤣
বিপ্লবের অর্জন কি এতই ঠুনকো যে দুই এক কথাতেই নৎসাত হয়ে যাবে?
এখন যে ফেসবুকে সোরগোল হচ্ছে সেটির মূল কারন কি?
গোলাম আজমের পুত্র জাতীয় সংগীতের বিরোধিতা করে বক্তব্য দিয়েছেন। তার এই বক্তব্যের প্রতিবাদ করাটা যে কোন নাগরিকের কর্তব্য এবং অধিকারের মধ্যে পড়ে। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করাটা দলিয় কোন ব্যাপার নয়। জাতীয় সংগীত আমাদের স্বাধীনতা আর সংহতির প্রতীক। মুক্তিযোদ্ধারা এই জাতীয় সংগীত গেয়েই মুক্তিযুদ্ধে উজ্জীবিত হয়েছিল, এই জাতীয় সংগীত গেয়েই মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল। “আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি” – এই গানের প্রতিটি পংক্তিতেই মুক্তিযোদ্ধারা অনুপ্রেরণা পেয়েছিল, সংগঠিত,সংবদ্ধ হয়েছিল। এই গান ৭১ সালে সাত কোটি বাংগালীকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একতাবদ্ধ করেছিল। জাতীয় সংগীত আমাদের আবেগ,অনুভূতির সাথে মিশে আছে।তাই যখন কেউ জাতীয় সংগীতের বিরুদ্ধে কথা বলে তখন আমি ব্যথিত হই, আমার রক্ত ফুসে উঠে, আমি ক্ষুব্ধ হই। আমার এই যে স্বতঃস্ফূর্ত অনুভূতি তার কি কোন দলিয় পরিচয় আছে?
একটি স্বাধীন দেশে জাতীয় পতাকার বিরুদ্ধচারন যে করবে দল মত নির্বিশেষে যে কেউ তার প্রতিবাদ জানাতে পারে।
তাই এই প্রতিবাদকে কোন দলিয় ট্যাগ দেওয়া ঠিক নয়। আপনি প্রতিবাদ করতে চাচ্ছেন না, সেটি আপনার ইচ্ছা। কেউ আপনাকে জোর করছে না।
স্কারবোরো, কানাডা
