
: জিন্নাহ কে?
: বাঙালির শত্রু।
: কীভাবে?
: বাঙালির মায়ের ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা না করে উর্দু চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল এই জিন্নাহ।
: কিন্তু বাঙালি সঙ্গে সঙ্গে এর প্রতিবাদ করেছে। এর বিরুদ্ধে রুখে আন্দোলন করেছে। সেই আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন অসংখ্য প্রাণ। আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি গান ও তার সুর সেই সময়ের সৃষ্টি।
: তারপর?
: উর্দু ভাষা চাপিয়ে দিতে না পেরে তারা আরেকটি কৌশল করলো। তারা আমাদেরকে রবীন্দ্র চর্চা বন্ধ করাতে চাইলো। প্রথমে রবীন্দ্রজন্মশতবর্ষে ৬১ সালে কোন অনুষ্ঠান করতে দিতে চাইলো না। কিন্তু তবুও মৃত্যুর ভয় ও জেল জুলুমের তোয়াক্কা আশংকা দূর করে ঢাকার মানুষ রবীন্দ্রনাথের জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথকে তাদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা দেখালেন। এবং সেই সাথে সৃষ্টি হলো এক অনন্যসাধারণ সংগঠন ‘ছায়ানট’। পরে ৬৭ সালে আরো স্পষ্ট করে খাজা নাজিমুদ্দিন বললেন- রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টি পাকিস্তান রাষ্ট্রের আদর্শের পরিপন্থী। অতএব, রবীন্দ্রনাথকে অর্থাৎ, রবীন্দ্রনাথের গান, নাটক, কবিতা, রবীন্দ্রনাথের কাহিনী অবলম্বনে চলচ্চিত্র সরকারি প্রচার মাধ্যমে বন্ধ করে দিল। তবু বাংলাদেশের মানুষ দমলেন না।
তাহলে জিন্নাহ ও পরবর্তীকালে তার অনুসারীরা কি বাঙালি জাতিসত্তা, বাংলাদেশ ও আমাদের স্বাধীনতার শত্রু!
: অবশ্যই।
: এই শত্রুদের বর্তমান রূপে কারা?
: খুব সহজ, যারা বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু দিন ১৫ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবস মানে না। লুঙ্গি নৃত্য করে বত্রিশ নাম্বার অগ্নিদগ্ধ বাড়ির সামনে এবং যারা শোক দিবস পালন করে বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করে শ্রদ্ধা দেখাতে চান, তাদের বিরুদ্ধাচারণ করে দল পাকায়। তারাই বাঙালি, বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ ও স্বাধীনতার শত্রু।
টরন্টো, কানাডা
