
প্রতিদিন হাজার কোটি টাকা লোপাটের অবিশ্বাস্য সব গল্প শুনি।
প্রতিদিন ফেইসবুক ফিডে গুম আর খুনের শিকার হওয়া পরিবারগুলোর খবর আর ছবি ভেসে আসে।
প্রতিদিন কেউ না কেউ মুখ খোলেন ১৫ বছরের বঞ্চনার ইতিহাস নিয়ে।
এতো কিছুর পরেও আমার মনে হয় ফ্যাসীবাদ আমাদের সবচেয়ে বড় যে ক্ষতিটা করে গেছে, সেটা হলো আমাদের মনো:জগতের। আমাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বপন করে গেছে অবিশ্বাস আর অনৈতিকতার বীজ। গত ১৫ বছরে এই বীজ চারা থেকে মহীরুহে পরিণত হয়েছে। আমরা সুস্থ্য, স্বাভাবিক এবং সামগ্রিক চিন্তা করার শক্তি হারিয়ে ফেলেছি।
আমরা হ্যামিলনের বাঁশীওয়ালাকে নিয়ে এসেছি, বাঁশীর জাদুতে শহরের সব ইঁদুর তাড়িয়ে দেবো বলে। অথচ বাস্তবতা এই যে, শহরের অধিকাংশ মানুষই আয়নার সামনে দাঁড়ালে মানুষের অবয়বের পরিবর্তে ইঁদূরের অবয়ব ভেসে উঠবে। কারও মাত্র লেজ গজিয়েছে, কারও মুখটা সবেমাত্র সূঁচালো হতে শুরু করেছে, কারও বা গোঁফজোড়া বেশ খানিকটা লম্বা হতে শুরু করেছে। নিজেদের অজান্তেই অনেকেই দু’পায়ের বদলে চার পায়ে হাঁটতে শুরু করেছে। ইঁদুর দৌড়ে অংশ নেবার মানসিক প্রস্তুতি কমবেশী সবারই ছিলো। এদের মধ্যে একদল প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন আবার মানুষ হতে। আর অন্যদলের কোন তাড়া নেই। তারা স্বপ্ন দেখছেন আবার কবে সবাই মিলে চার-হাত পায়ে হাটবেন।
সব শহীদের রক্তের দোহাই লাগে, দেশ গড়তে বাঁশিওয়ালার সাফল্য চাইলে, ইঁদূরের মতো যত্রতত্র কুটুস কাটুস কামড়ানো বন্ধ করুন। গণতন্ত্র একটি দীর্ঘ মেয়াদী প্রক্রিয়া। তাতে প্রজ্ঞা, ধৈর্য্য আর দীর্ঘ অনুশীলনের প্রয়োজন। এগুলোর চর্চা অচিরেই শুরু করতে না পারলে আমাদের কষ্টের ফসল বারবার বর্গীরা খেয়ে যাবে। আর ফাইয়াজ, মুগ্ধ, আবু সাঈদের মতো অগণিত শহীদ তাঁদের রক্তের দামে আমাদের মামাবাড়ির আবদারের মুল্য পরিশোধ করেই যাবে।
টরন্টো, কানাডা
