
আগে আমরা দেখেছি, চোর কিংবা ডাকাত ধরা পড়লে উত্তেজিত জনতা সেই চোর বা ডাকাতকে পিটিয়ে মেরে ফেলছে।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারনেও মব জাস্টিস আমরা এর আগেও দেখেছি।
দেখেছি কিভাবে বিশ্বজিৎকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল।
আমরা দেখেছি আবরারকে কিভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল।
এই রকম আরও অসংখ্য উদাহরণ দেওয়া সম্ভব।
আমি জানি না, হঠাৎ করেই কি এই মব জাস্টিস বেড়ে গেলো? এর কি কোন পরিসংখ্যান আছে? এই সময়ের কোন ডেটা?
উত্তেজিত জনতা কাউকে পিটিয়ে হত্যা করে এক ধরনের বিচারিক ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে।
তারা আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে। এটি সভ্য দেশের বিধান হতে পারে না।
এর আগে প্রশ্নটা আসতে হবে রাষ্ট্র থেকে।
বিচার বহির্ভূত হত্যার পথ কি রাষ্ট্র দেখিয়ে দেয়নি?
আমরা জানি কক্সবাজারের কাউন্সিলর একরামুলকে কিভাবে র্যাব ক্রসফায়ারে গুলি করে হত্যা করেছিল।
সেই ক্রসফায়ারের সেলফোনে রেকর্ডকৃত কথোপকথনের কিছু রক্তহিম করা অডিও ক্লিপ সেই সময় আমরা শুনেছিলাম।
“একটি রেকর্ডে, বন্দুকের ট্রিগার টানার শব্দ শোনা যায়। তারপর গুলির শব্দ। এরপর একজন মানুষের গোঙানির আওয়াজ।”
অস্বীকার করার উপায় নাই, এই সব হত্যা রাষ্ট্রব্যবস্থায় হয়েছে।
সাম্প্রতি “মব জাস্টিস” কথাটি বাংলাদেশে খুব শোনা যাচ্ছে।
মানুষ মানুষকে পিটিয়ে হত্যা করে শাস্তি দিতে চাচ্ছে।
গতকাল একজন মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষকে ভাত খাওনোর পর পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
স্বাভাবিকভাবে খাদ্য গ্রহন করেছে সে। বুঝতেই পারেনি কিছুক্ষন পরেই তার উপর নেমে আসবে নৃশংসতা, বর্বরতা।
মব জাস্টিস বন্ধ হোক। রাষ্ট্র সুষ্ঠু ধারায় ফিরে আসুক।
স্কারবোরো, কানাডা
