
বিলাসীতা অনেক কিছু নিয়ে হয় এবং অনেক ধরনের হয়। আমাদের এই বিলাসীতার ধরন একটু ভিন্ন। হ্যা! বাগান নিয়ে বিলাসীতা। যারা প্রত্যক্ষভাবে বাগান করেন কিংবা বাগানকে ভালবাসেন তাদেরকে নিয়েই আমাদের এই বাগানবিলাসী গ্রুপ।
বনে না হলেও গতকালের বনভোজন ছিল বন দিয়ে ঘেরা এক ছোট্ট জলাধারের পাশে। মল্ডেন পার্ক এন্ড রিক্রিয়েশিন সেন্টারে। আমি এক সপ্তা আগে রাত সাড়ে নয়টায় আমাদের পিকনিক স্থল দেখতে গিয়েছিলাম। রিক্রিয়েশন সেন্টারের পরিচালক আমাকে ঘুরে দেখতে বললেন। আমি আসলেই মুগ্ধ হই ওখানকার অপার সৌন্দর্য দেখে। ছোট্ট একটি হ্রদ – মাঝখানে ফোয়ারা। চারদিকে জোনাকির আলো এর ঝি ঝি পোকার পোকার ডাক। সে কি এক স্বর্গীয় মায়াবী পরিবেশ। বলে বুঝান যাবে না।
হ্যা! গতকাল সেখানেই হয়েছে আমাদের বনভোজন।।
আনন্দঘন বনভোজনের পর আজ আরেকটি নতুন দিন। তবে গতকালের আনন্দের রেশ হয়ত থাকবে আরো অনেক দিন। কমবেশি আমরা সবাই যে যার মতো কাজ করেছি একটি সুন্দর বনভোজনের জন্য এবং সেটা আমার মনে হয় ফলপ্রসূ হয়েছে। এট আদৃশ্যমান যে, আমাদের মাঝে কেঊ কেঊ অনেক বেশি দায়িত্ব পালন করেছেন – স্বেচ্ছায় সানন্দে। ভাবটা এই – এটা আমার পিকনিক – আমার প্রতক্ষিত এক প্রানের পিকনিক।।
পিকনিকের আগের দিন, মানে গেল শানিবার আমাদের বাসায় অনেকেই এসেছিলেন পিকনিকের এডভাঞ্চ পার্টি হিসেবে কাজ এগিয়ে রাখতে।
গীতি- আলমগীর, রুনা ভাবী – মিল্টন ভাই, তাসমিয়া মুনমুন – মানিক, দিলারা ভাবী- ফিরোজ ভাই, বীথি ভাবী – আলম ভাই এবং জালাল -মিশু সবাই এসেছিল পিকনিকের আগাম কাজ করতে। কেউ কেউ সাথে নিয়ে এসেছিলেন নিজ বাগানের লাউ, সব্জি, কেউবা আবার টাটকা ভাজা শিঙ্গারা, কেউবা চিরা – বাদাম ভাজি। সাথে শাহিনের রান্না করা ভূনা খিচুরী এবং গরুর গোশ তো আছেই। মনে হয়েছে এটি আরেকটি মিনি পিকনিক।
ছোট ভাই মানিকের সব্জি কাটার স্টাইল দেখে মনে হয়েছে সে খুব পেশাদার এই লাইনে। যদিও মুনমুন সেটা মানতে নারাজ। সবাই হাত লাগানোর ফলে স্বল্প সময়ের মধ্যেই সব্জি ধোয়া এবং কাটার কাজ শেষ হয়ে গিয়েছিল। আমার কাজ যদিও আমাদের বাগান থেকে একটি টাটকা চালকুমড়া, সিম এবং কিছু ওলকপি তুলে আনার মধ্যেই সিমীত ছিল। যারা শেষ অবদি ছিলেন তাদের জন্য বিশেষ আকর্ষন ছিল খেজুর গুড়ের মালাই চা। হ্যা! আমি নিজে করেছিলাম। তাই ছোট্ট একটু ধন্যবাদ হয়ত আমি নিজেও ডিজার্ভ করি।
গতকাল পিকনিক আয়োজনে যারা সকালের নাস্তা এবং দুপুরের খাবার তৈরিতে মূখ্য ভূমিকা পালন করেছেন তাদের কারো কারো কথা একটু না বললেই নয়। তবে সবার নাম এ মুহুর্তে স্মরণ করা কঠিন। তাই অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য আগেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
নাস্তা তৈরিতে যারা খুব ব্যস্ত ছিলেনঃ
পরটা ভাজায় শম্পা – বীথি ভাবি – তাসমিয়া মুনমুন – নার্গিস ভাবী সহ আরো অনেকে।
শাহী হালুয়াঃ একক কৃতিত্ব – রুনা ভাবী এবং মিল্টন ভাই।
চনা বুটের স্পেশাল ডাল – আমার স্ত্রী নিগার সুলতান শাহীন। পরে যদিও আমি এবং আমরা অনেকেই হেল্প করেছি গরম করে পরিবেশন করতে।
ডিম ভাজিতেঃ শামসুল আলম ভাই এবং সাব্বির। তাদের সাথে ছিলেন মান্নান ভাই এবং আরো অনেকেই।
উপরের কয়েক জনের নাম শুধু বলেছি। কিন্তু এর বাইরেও অনেকেই ছিলেন যাদের সবার নাম আর আলাদা করে মনে করতে পারছিনা। কিন্তু এই গ্রুপের সাবাইকে ধন্যবাদ।
দুপুরের খাবারঃ
কালিজিরা চালের পোলাওঃ রুনা ভাবির নেতৃত্বে পলাও রান্নার এই বিশেষ টিমে ছিলেন – লিমা এবং সাহায্য করেছেন মিল্টন ভাই এবং আরো কেউ কেউ। খুব মজার পোলাও রান্না হয়েছিল। বিশেষকরে একসাথে এত বড় হাড়িতে ২০ পাউন্ড পোলাউ রান্না করা খুব সহজ ব্যপার না। আমি বলব এটি একটি দুঃসাহসিক কাজ। স্যালুট আবারো!!
সব্জি রান্নাঃ
শাহীন – রবিউল – লিপি ভাবি – মামুন এনং মিশু। তাছাড়া অনেক ভাবীরাও হেল্প করেছেন। অনন্য এক মজাদার সব্জি। আজ সকালের নাস্তায় একটু খেলাম। অসাধারন!! মনে হয়েছে আরেকটু যদি পেতাম। ধন্যবাদ সবাইকে।
গরুর মাংস রান্নাঃ
নাসরিন ভাবির নেতৃত্বে এই টিমে ছিলেন আলম সরকার ভাই, রেবেকা ভাবি এবং মোল্লা ভাই। অদ্ভুত মজার এক মেজবানী মাংস রান্না হয়েছিল। আমার মনে হয় আমরা সবাই এই স্বাদের মাংসের কথা অনেক দিন মনে রাখব।
মুরগীর দেশী স্টাইল শাহী রোস্টঃ
শাহিদা মনি মেইন শেফ। রোস্ট ফ্রাই করতে হেল্প করেছে শাহীন এবং মিশু। তাছাড়া হাত লাগিয়েছেন আরো অনেকেই। অসাধারন মজার এক রোষ্ট হয়েছিল। মনির হাতের শাহী রোষ্ট সব সময় ই খুব মজার – এটা আমরা আগেই জানি। বড় ব্যপার হচ্ছে একসাথে এক হাড়িতে এত বেশী রোস্ট রান্নার এটি ওর জন্য একটি নতুন অভিজ্ঞতা।
অসংখ্য ধন্যবাদ।
তবে আমার ভাল লেগেছে এটা দেখে যে, অনেকেই আমি দেখেছি অনেকেই পিকনিকে এসে ওনারশীপ ফিল করেছেন। বলেছেন –
“এটা আমার পিকনিক – এটা আমাদের বাগানীদের পিকনিক”।
ছোট বেলায় আমরা যখন পিকনিক করতাম – এই ফিলটা তখন হতো। আজও এই দূর প্রবাসে তাই পাচ্ছি। অভুতপূর্ব।
আমরা আসলেই সৌভাগ্যবান।
জালাল – মিশু এবং আমার স্ত্রী শাহীন এই বনভোজন আয়োজনের পেছনে অনেক শ্রম এবং সময় দিয়েছেন। ধন্যবাদ আবারো।
পুনশ্চঃ
এই পিকনিকের অংশ গ্রহণকারীদের লটারি আয়োজনে প্রিয় ছোটভাই নাসিরুদ্দিন খোকন এবং ছোট বোন নুশেরা গীতি পুরস্কার হিসাবে প্লান্ট এবং টিমহর্টন টিকেট দিয়েছেন। তাছাড়া গীতি আমড়ার চাটনী এবং মসলাদার রঙ চা করেছিল সবার জন্য।
উইন্ডসর, কানাডা




