
সারাদিন এবং রাতভর বৃষ্টি হয়েছে।
বৃষ্টির পর নতুন সাজ নিয়েছে প্রকৃতি। কি অবাক করা মায়া। সকালে ঘুম থেকে উঠেই একটু দোয়া কালাম নামাজ এরপর বাগানে। পুরো সামারে আমার একই অভ্যাস।
তবে আজকের সকালটি একটু আলাদা। শরতের শিশির ভেজা সকাল। বৃষ্টি ভেজা ঘাসের উপর শিশিরের মাখামাখি। ছবি তুললাম অনেক গুলো। ছবি প্রায় প্রতিদিনই তুলি কিন্তু অলসতার কারনে আর ফেসবুকে শেয়ার করা হয়না।
আজ ছবি শেয়ার করার অন্য একটি কারন আছে।
গত বছর অক্টোবরে লেবু গাছের ডালপালা কেটে কয়েকটি ডালা ছোট টবে বসিয়েছিলাম। ভাবেছিলাম এ বছর ফুল আসলে এগুলো বন্ধু মহলে বিলি করব। অনেকেই চারার কথা বলেন এবং চারা বিলিও করি। কিন্তু ফুল ফল আসেনা অনেকেরি। তাই ভাবলাম পরীক্ষাটা নিজেই করি। ফুল কেন আসেনা তা দেখি। যদিও গত ছোট তিন ইঞ্চি টবে চারা বানিয়ে সেগুলো রাখতে পারিনি সেগুলো আমার কাছে। সবগুলো গাছই গতবছর ডিসেম্বরের মধ্যে বিলি হয়ে যায়। এক দুটো মরেও যায়। আমার কাছে শেষ পর্যন্ত বেঁচেছিল শুধু একটি গাছ।
এই সামারে গাছটি বেশ বড় হয়েছে কিন্তু ফুল আসেনা আমারও। গাছে যত্ন আত্বির কোন অভাব নেই। তাও কেন ফুল আসেনি। অস্থির হয়ে গেলাম। কিন্তু সব জল্পনার অবসান হয়েছে আজ। ফুল বেরিয়েছে দুটো ডালে। এর মানে হচ্ছে প্রয়োজনীয় পরিচর্যা পেলে গাছে ফুল আসে – এটি আবারো বুঝতে পারলাম।
আলহামদুলিল্লাহ!
আজ বাগান থেকে রকমারি সব্জি উঠালাম।
সব্জি উঠাই প্রায়ই এবং নিকটজনদের মধ্যে বিলি বণ্টনও করি। সবচেয়ে বড় সমস্যা সব্জি উঠানো এবং তারচেয়ে বড় সমস্যা সেগুলোকে বিভিন্নজনের বাসায় পৌছে দেয়া। আর এই বিড়ম্বনার জন্য অনেক সময়ই বিলি করা হয় না। তাই সবাইকে বলি আসুন, বাগান দেখে যান এবং ফ্রেশ সব্জি তুলে নিয়ে যান।
গত কয়েকদিনের উঠানো কিছু সব্জির ছবি শেয়ার করছি। কারো কারো হয়ত ভাল লাগবে। এই সমারে জুন, জুলাই এবং আগষ্ট মাসে উঠানো বাগানের আরো কিছু ছবি পরে শেয়ার করবো ভাবছি। বাগান এখন প্রায় শেষের দিকে। রাতে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রীর নিচে নেমে যাচ্ছে ইদানিং। তাই সিম আর করল্লা আর মূলা ছাড়া অন্য সব গাছ তুলে ফেলতে হবে।
সব বাগানী বন্ধুদের জন্য শুভকামনা।
উইন্ডসর, কানাডা



