
ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস ১৯৬৫ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসেন। এরপর লোক দেখানো চার চারটি নির্বাচন করে ক্ষমতা নিজের করায়ত্ব করে কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যস্থা কায়েম করেন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে একহাজার কোটি ডলার বিদেশে পাচার করেন। ক্ষমতায় থেকে তিনি অবকাঠামোগত দৃশ্যমান উল্লেখযোগ্য পরিমাণ উন্নয়ন করেন তবে সবই বৈদেশিক ঋণের টাকায়। একসময় ঋণের চাপ পরে দেশের অর্থনিতীতে, ফলে ছড়িয়ে পরে জনরোষ।
জনরোষ ঠেকাতে ব্যাপক বল প্রয়োগ করেন, গণ-আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারন করে, আন্দোলনের তীব্রতায় ১৯৮৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান রক্তপাত এড়াতে মার্কোসকে দেশ ছাড়ার পড়ামর্শ দেন। ফলে মার্কোস স্ত্রী ইমেলদাসহ বিমানযোগে হাওয়াই দ্বীপে পালিয়ে যান, পালিয়ে যাওয়ার সময় বিমানে করে নিয়ে যান বিলিয়ন বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের নোট, গহনা, হীরা-মুক্তা-জহরত ইত্যাদি। মার্কোস দম্পত্তি পালিয়ে যাওয়ার পর বিক্ষুব্ধ জনতা প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে ঢুকে পরেন।
হাওয়াই দ্বীপে থাকার সময় ১৯৮৯ সালের জুলাই মাসে মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পরলে ফিলিপাইনের তৎকালিন ভাইস প্রেসিডেন্ট হাওয়াই দ্বীপের একটি হাসপাতালে তাকে দেখতে যান। অসুস্থ মার্কোস ভাইস প্রেসিডেন্টের কাছে তার মৃত্যুর পর ফিলিপাইনে তার মায়ের সমাধির পাশে সমাহিত হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন, বিনিময়ে ফিলিপাইন থেকে লুট করে নিয়ে আসা সম্পদের ৯০ভাগ ফিলিপাইন সরকারকে ফেরৎ দিবেনে, কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়নি। ১৯৮৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে হাওয়াই দ্বীপের হাসপাতালেই তিনি মারা যান।
দেশের যে পরিমাণ সম্পদ মার্কোস লুট করেছেন তা এতো বিলাসী জীবন-যাপন করেও এর ১ ভাগও শেষ করে যেতে পারেননি। অথচ ফিলিপিনোরা তার রেখে যাওয়া ঋণ এখনও শোধ করে যাচ্ছেন, যা শেষ হবে আগামী ২০২৫ সালে।
মার্কোসের মরদেহ হাওয়াই দ্বীপে সংরক্ষিত ছিল চার বছর। ১৯৯৩ সালে প্রেসিডেন্ট ফিদেল রামোস তার মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করেন এবং দেশের মানুষ যাতে একজন স্বৈরশাসককে ঘৃণার সঙ্গে দেখতে পারে তারজন্যে মরদেহ হীমাগারে সংরক্ষিত রাখেন। দীর্ঘ ২৩ বছর সেখানে সংরক্ষিত ছিল। ২০১৬ সালে ফিলিপেইনের আরেক স্বৈরাচারী প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দোতেরতে মার্কোসের মরদেহ সমাহিত করার নির্দেশ দেন এবং রাতের আঁধারে সে কাজটি সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু ফিলিপাইনের বেশিরভাগ জনগণ মার্কোসের মরদেহ দেশের মাটিতে সমাহিত করার বিপক্ষে ছিলেন।
