
প্রিয় শহর টরন্টোতে ‘বিজয় দিবস’ নিয়ে বেশ কিছু অনুষ্ঠানের পরিকল্পনার কথা শুনছি! সামাজিক মাধ্যমে দু’ একটি আয়োজনের প্রস্তুতির কর্মচাঞ্চল্যের ছবিসহ সংবাদও পাচ্ছি! বুক ভরে উঠছে গর্বে! আমাদের মাথা উঁচু করবার মত জাতীয় দিবসগুলো যথাযথ মর্যাদায় প্রবাসে পালিত হবে! এটাই তো চাই! দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সমন্বয়ে প্রবাসের শহরগুলো হয়ে উঠুক একখণ্ড বাংলাদেশ!
সাম্প্রতিক সময়ঃ
খুব সহসা বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে একটা বড় রকম পরিবর্তন এসেছে! জুলাই-আগস্টে কোটা বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে যার সূচনা এবং সরকারের পদত্যাগের মধ্যদিয়ে খুব দ্রুত তা শেষ হয়! কারুর কাছে এটা ছিল, ছাত্র-জনতার গণ অভ্যুত্থান, কেউ বলছেন বৈষম্য বিরোধী বিপ্লব, আবার কারুর কাছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতার অনুভূতিকে ব্যবহার করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী মৌলবাদী চক্রের ষড়যন্ত্র!
যে যাই বলুক, সময়ই বলে দেবে কোনটা সঠিক? অথবা শতকরা বিবেচনায় কমবেশী সঠিক অথবা বেঠিক! কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশের অভ্যুদয়, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুসহ সেই সময়ে স্বাধীনতার জন্য জাতীয় নেতাদের ভূমিকা, এবং ১৯৭১ এ কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, মধ্যবিত্ত ও সশস্ত্র বাহিনীর অবদান কেউ অস্বীকার করতে পারবে না এবং করবেও না! ৩০লক্ষ শহীদ ও দুই লক্ষ নারীর জীবনের ত্যাগকে কেউই অস্বীকার করতে পারবে না! এই প্রবাসে বসে আজ তারই বহিঃ প্রকাশ দেখতে পাই! দল-মত-পথ যে যাই অনুসরণ করুক না কেন কেন, আজ এটা শতসিদ্ধ প্রমাণিত, আমরা প্রবাসীরা স্বাধীন স্বদেশভূমিকে ভালবাসি! প্রাণ দিয়ে ভালবাসি! “আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি…!”
অভিনন্দন ও শুভ কামনাঃ
যারা যেভাবে টরন্টোসহ প্রবাসের বিভিন্ন শহরে মহান বিজয় দিবস পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বা নিতে যাচ্ছেন সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভ কামনা!!!
সম্প্রতি টরন্টোতে ‘মুক্তবুদ্ধি চর্চার শিল্পীবৃন্দ’এর ব্যানারে একটা ‘পাটাতন’ তৈরী হয়েছে, যারা উদার ভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর প্রতি আকণ্ঠ শ্রদ্ধা’ অসাম্প্রদায়িকতা, সাম্য ও গণতন্ত্রে বিশ্বাসী হয়ে বিভিন্ন জাতীয় দিবসে কর্মসূচী পালন করছেন! ইতোমধ্যে তারা টরন্টোর বৃহৎ কমিউনিটিকে সঙ্গে নিয়ে ১৫ আগস্ট জাতির জনকের মৃত্যু বার্ষিকী পালনসহ সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেছেন! সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে প্রতিটি আয়োজন সফল ভাবে সম্পন্নও হয়েছে! আগামী ১৫ ডিসেম্বর তাঁরা মহান বিজয় দিবস পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন!
এছাড়া টরন্টোর স্বনামধন্য তেরটি সাংস্কৃতিক সংগঠন মিলে ১৪ডিসেম্বর জাতীয় বুদ্ধিজীবি দিবস ও মহান বিজয় দিবস পালন করবে! টরন্টো ফিল্ম ফোরামের আয়োজনে ১৩ থেকে ১৬ ডিসেম্বর ২০২৪ অনুষ্ঠিত হবে চারদিন ব্যাপী ‘বিজয় উৎসব’! এ ছাড়াও আরও কিছু সংগঠন বিজয় উৎসবের পরিকল্পনা করছে বলে শুনেছি! সকল আয়োজনকে আবারও আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা!
আসুন আমরা সবাই মিলে সবগুলো আয়োজনকে সফল করতে যার যার সাধ্যমত কাজ করি! যে কোন প্রয়োজনে সবাই সবার পাশে দাঁড়াই! কারণ দিন শেষে কেবল আমরাই বলতে পারি, ‘সকলের তরে সকলে আমরা প্রত্যেকে আমরা পরের তরে!
মহান বিজয় দিবস অমর হোক! জয় বাংলা! জয় বঙ্গবন্ধু!!
টরন্টো, কানাডা
