
সাপ্তাহিক ছুটির আগের রাতে, বৃষ্ঠিস্নাত সন্ধ্যায় দেখলাম পরিচালক জসপাল সিং সান্ধু’র বধ। সিনেমাটি ২০২২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত। যখন বড়পর্দায় সঞ্জয় মিশ্র এবং নীনা গুপ্তার মতো দুই দক্ষ অভিনেতা থাকবেন, তখন এটা নিশ্চিত যে,স্ক্রিপ্টের গুণমান নির্বিশেষে কিছু উচ্চ শ্রেণীর অভিনয় দেখতে পাওয়া দারুন ব্যাপার হবে। এই দুই অভিজ্ঞ অভিনয়শিল্পী সবসময় তাদের চরিত্রের গভীরতায় ঢুকে পড়েন এবং স্ক্রিপ্টকে ছাপিয়ে অভিনয়ের পারঙ্গমতায় শিল্পটাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান।
নীনাগুপ্তার অভিনয় আগেও দেখেছি। সিনেমায় অভিনয়ের চেয়ে বেশী পরিচিতি পেয়েছিলেন নব্বই দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিখ্যাত ক্রিকেটার স্যার ভিভ রির্চাডসের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে। সেই কারণে আমাদের কৈশোরে নীনাগুপ্ত ছিলেন আলোচিত চরিত্র।
সিনেমার চিত্রনাট্য এবং সংলাপ ভালো। বধের কাহিনীতে যথেষ্ট সাসপেন্স রয়েছে এবং যদিও খুব কমই কোন চমক আছে। সঞ্জয় এবং নীনা একজন বয়স্ক মধ্যবিত্ত দম্পতির ভূমিকায় অভিনয় করেছেন যাদের একটি ছেলে আমেরিকায় কাজ করছে। সঞ্জয়কে তার ছেলের আমেরিকায় যাওয়ার অর্থায়নের জন্য একটি ঋন নিতে হয়েছিল। ছেলের কাছ থেকে কোন টাকা না আসায় তিনি অর্থপ্রদানে খেলাপি হয়ে পড়েন এবং ঋনদাতা বৃদ্ধ দম্পতির জীবনকে নরক করে তোলে এবং এ কারনে তারা মহাজনের কাছে তাদের বাড়ি হারানোর ঝুঁকিতে থাকেন।
পরিচালক জসপাল সিং সান্ধু এবং রাজীব বার্নওয়াল সিনেমাটিকে বেশ আকর্ষণীয় করে তুলেছেন এবং কিছু উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্ত রয়েছে। পুরো কাহিনীটিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে। খলনায়ক হিসাবে সৌরভ সচদেবা অত্যন্ত ভাল কাজ করেছেন এবং তার ভয়ঙ্কর চেহারাটি পছন্দসই প্রভাব নিয়ে আসে। মানব ভিজ পুলিশের ভূমিকায় ভাল করেছেন। এই সিনেমাটি গড় দর্শকদের কাছে আবেদন নাও জাগাতে পারে কারণ এটি সাধারণ বাণিজ্যিক মূলধারার সিনেমা নয় এবং এতে কোন হাস্যরস, সঙ্গীত বা এ জাতীয় কোন বিনোদন নেই।
এই সিনেমার প্রধান সম্পদ শক্তিশালী অভিনয়, শক্তিশালী পারফরম্যান্স।
মন্ট্রিয়ল, কানাডা
