বছর ঘুরতেই ফিরে আসে মহান যিশুখ্রিস্টের জন্মদিন

বছর ঘুরতেই ফিরে আসে মহান যিশুখ্রিস্টের জন্মদিন

শুভেচ্ছা বিনিময় হয় অন্তরিকতার স্বরূপ হিসেবে। তবে কার্ড হয়ত বিনিময় হয় সচরাচর খুব নিকট বন্ধুদের সাথেই। আমাদের ছোটবেলায় আমরা খুব কাছের বন্ধুদের জন্য ঈদ কার্ড, নববর্ষের কার্ড, জন্মদিন কার্ড ইত্যাদি বিনিময় করতাম। কালের বিবর্তনে সেই জায়গা নিয়েছে ই-মেইল, ফেসবুক কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া। যেখানে একসাথে অনেকেই এক কার্ডে শুভেচ্ছা জানানোর সূ্যোগ তৈরি হয়েছে। আমরা হয়ত যথা নিয়মেই সেই মহান সূযোগের যথাযোগ্য সদ্যাবহার করছি। তবে ব্যতিক্রম যে নাই তা হয়তো বলা যাবেনা।

গত বছর এই সময়টায় আমি কার্ড পেয়েছিলাম আমাদের সিটি মেয়র ডঃ ড্রিউ ডিলকেন্স, স্থানীয় দুজন এম.পি – ব্রায়ান মেসি এবং শ্যারল হার্ড ক্যাসলসহ মান্যবর কিছু ব্যক্তির কাছ থেকে। কার্ড পেলে আমার বেশ ভাল লাগে। মনে হয় আমার মতো এতো নগন্য একজনকে মনে রেখেছে কেউ – ভেবে মন ফুরফুরে হয়ে যায়। যদিও এর বিনিময়ে কার্ড দেয়া হয়না কখনোই। তবে পরবর্তিতে ফোনে কিংবা দেখা হলে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাতে সচরাচর ভুল করি না আমি।

- Advertisement -

এই বছর কার্ড নিয়ে ঘটেছে এক ব্যতিক্রমীই ঘটনা।

সপ্তা খানেক আগেই নিজ হাতে সই করা কার্ড পেয়েছি আমাদের স্থানীয় উইন্ডসর-টেকামশে এম পি এবং পার্লামিন্টারি সেক্রেটারি (to the Minister of Employment, Workforce Development and Disability Inclusion) ডঃ এরিক কুজমিয়াচেকের কাছ থেকে। কার্ড দেখেই মনে পড়ে যায় বছর তিনেক আগের কথা। আমার ইউনিভার্সিটি এভিনিউর অফিসে বসে চা খেতে খেতে গল্প করছিলাম। তখনো তিনি জাতীয় রাজনীতিতে অনেকটা অপরিচিত মুখ। আমি বললাম তুমি বয়সে খুব তরুণ কিন্তু হাইলি এডুকেটেড। তাই জাতীয় রাজনীতিতে আসা দরকার। আমি তোমার এক বিশাল সম্ভাবনাময় ভবিষ্যত দেখতে পাচ্ছি। এরিক কিছু না বলে হু হু করে হেসে উঠল। আমি তখনো জানিনা এই হাসির অন্তরালে কি লুকিয়ে আছে। তবে বছর খানেক আগে কানাডার প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং যখন তাকে পার্লামেণ্টারি সেক্রেটারি পদে ডেকে নিলেন তখনই বুঝলাম এই হাসির মানে কি। এ বছর ফেব্রুয়ারিতে এরিক যখন আমাদের একুশের ফ্ল্যাগ রেইজিং এ সিটি হলে আসলেন তখন আমি তাকে আমাদের সেই চায়ের টেবিলের কথা স্বরন করিয়ে দিলাম আবারো। এরিক হাসলো আবারো – বলল:

দ্যাখ! সময় কতো তাড়াতাড়ি যায় – মনে হয় এইতো সেদিন!!

হ্যা! এরিক হয়তো সেদিনের কথা ভুলেনি। আর তাই হয়তো একটি কার্ড পাঠিয়ে আন্তরিকতা দেখাতেও ভুলেনি।

তার চেয়ে আরো বড় ব্যতিক্রমী একটি ঘটনা ঘটেছে মাত্র দুদিন আগে।

মেইল বক্স থেকে মেইল হাতে নিতেই দেখি আমাদের প্রিয় প্রধানমন্ত্রী “রাইট অনারেবল জাস্টিন ট্রুডো”র কাছ থেকে আসা মেইল। প্রথমে একটু ভরকে গেলাম। কারন এ রকম মেইল এটিই প্রথম। এর আগে একাধিকাবার প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে মেইল পেয়েছি কিন্তু প্রধান মন্ত্রির সরাসরি নাম করে নয়। আমি জানি আমার মতো মেইল হয়তো আরো অনেকেই পেয়েছেন। কারন কানাডার প্রধানমন্ত্রী তার নিকটজনদের বড়দিনের শুভেচ্ছা জানাবেন এটাই তো স্বাভাবিক। আমি লিবারেল পার্টির স্থানীয় উইন্ডসর রাডিং এসোসিয়েশনের ডিরেক্টরস কমিটির একজন অতি নগন্য সদস্য। আমার মত আম-জনতার কাছ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর এই শুভেচ্ছা পৌঁছাবে এটা ভাবতে অবাক লাগে। নিজেকে আসলেই সৌভাগ্যবান মনে করছি।

সবাইকে বড়দিনের শুভেচ্ছা।

উইন্ডসর, কানাডা

- Advertisement -

Read More

Recent