
ছুটিরদিনের তুষারস্নাত রাতে লম্বা আড্ডা জমেছিল ডাউনটাউনে মিঠুভাইয়ের সেন্ট ম্যাথুর বাসায়। আড্ডা মানে আমি আর মিঠুভাই। দু’জন একত্রে হলে আলোচনার বেশীরভাগ জুড়ে থাকে রাজনীতি,খেলা,সংস্কৃতিসহ দৈনন্দিন জীবনাচারের নানান প্রসঙ্গ। কোন কোন টপিকসের আলোচনা পূর্নাঙ্গ বা শেষ হয় না। কারণ হয় আমি, নয় মিঠুভাইর একগুয়েমিতে যুক্তিতর্কে উপসংহার টানতে পারি না। ক্ষোভ অভিমান নিয়ে আমি আলোচনা হতে উঠে পড়ি বা উনি হাল ছেড়ে দেন। কিন্ত সেই অভিমান,ক্ষোভ কখনোই দীর্ঘস্থায়ী হয় না। হবে কি করে? মিঠুভাই যে আমার জন্য মজার মজার খাবার রেঁধে রেখেছেন। তা আমি না খেলে খাবে কে?
এই রাগ,ক্ষোভের মাঝেই আমরা নিয়মিত দেশ বিদেশের সিনেমা দেখি। তীর্যক মন্তব্য করি। ব্ল্যাক লেবেল বা গ্ল্যান ফিল্ডচ হুইস্কি পেগের পর পেগ গলধ:করণ করতে করতে সিনেমায় ডুবে থাকি। কর্মব্যস্ত সাপ্তাহ শেষ করে মুলত: শুক্রবার রাতেই আমরা আড্ডায় বসি। গতকালও বসেছিলাম। তখন দেখেছি পুস্পা-২। আমার ভাল লাগেনি অথবা মনযোগ দিয়ে দেখিনি। শনিবার সন্ধ্যায় মিঠুভাই ফোন করে জানান, নতুন সিনেমা কুহেলিকা এসেছে ( যদিও সিনেমাটি ২০২৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত), দেখলে আসো।
আচ্ছা আসব।
রাতে সেইন্ট ক্রিসেন্টের সাক (saq) হতে দেড় লিটারের ব্ল্যাক লেবেল নিয়ে মিঠুভাইয়ের বাসায় হাজির। ব্ল্যাক লেবেল থাকবে মাংস হবে না, তা কি করে হয়!
মিঠুভাইয়ের হাতে শুধু মাংস না,ডাল থেকে শুরু করে সবধরনের তরকারি রান্না অসাধারণ। যিনি তার হাতের রান্না একবার খেয়েছেন, সে জন বারবারই খেতে চাইবেন।
যাহোক, রান্না চাপিয়ে আমরা গলা ভিজিয়ে সিনেমা দেখতে বসে পড়ি। থ্রিলার মুভি কুহেলিকা। আমার আগ্রহ ছিল সাফায়েত মনসুর রানা ও সাফা কবিরের অভিনয় দেখা। রানার অভিনয় সম্ভবত প্রথম দেখা। সাফার অনেক কাজ আগে দেখা হয়েছে। কিছুটা পছন্দের অভিনয়শিল্পী। কুহেলিকায় দু’জনের অভিনয় আমাকে নিরাশ করেনি।
কুহেলিকা’ মিস্ট্রি থ্রিলার গল্প। যেখানে দুই প্রজন্মের দুটি মেয়ে জীবনকে ভিন্নভাবে দেখে। একজন নব্বই দশকের এবং অন্যজন এই প্রজন্মের। এখান থেকে শুরু হলেও গল্পের টুইস্ট আছে। গল্পের নানান বাঁক আছে। আছে কি হবে জানার কৌতুহল। কাহিনির পরিনতির জন্য শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করিয়ে রাখতে পারা পরিচালকের কৃতিত্বই বলবো।
এমনই মিস্ট্রি গল্পে নির্মিত হয়েছে ওয়েব সিনেমা ‘কুহেলিকা’। সিনেমাটির চরিত্রগুলোর প্রতিটিই কুয়াশাচ্ছন্ন। থ্রিলার সিনেমার প্রধান দুই নারীর একজন সাফা কবির, আরেকজন নাজিয়া হক অর্ষা। অর্ষা বরাবরই ভাল অভিনয় করেন,কুহেলিকায়ও সুনামের সাথে অভিনয় করেছেন। কুহেলিকা পরিচালনা করেছেন সামিউর রহমান। যদ্দুর মনে পড়ে, বিজ্ঞাপন জগতের বাহিরে এটি তাঁর প্রথম সিনেমা নির্মান। প্রথম নির্মানে তিনি উৎরে গেছেন।
ভালোবাসার মানুষ যদি কারো সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে। প্রতারিত ও আঘাতপ্রাপ্ত হলেও ঘুরে দাঁড়ানোর প্রতিজ্ঞা করে, এরকম একটা চরিত্রে সাফা কবির দূর্দান্ত অভিনয় করেছেন। দেশের সেরা মেধাবী নির্মাতাদের একজন শাফায়েত মনসুর রানা, এই সিনেমায় তার অভিনয় দাগ কেটেছে। আবারও বলি, অর্ষা ছোটপর্দার গুনী ও প্রতিভাময়ী অভিনয়শিল্পী। তাঁর চরিত্রে তিনি যথাযথ ছিলেন।
অর্ষা-সাফা, রানা ছাড়াও এতে আরও অভিনয় করছেন ইয়াশ রোহান, আবু হুরায়রা তানভীর প্রমুখ। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত চিত্রগ্রাহক সুমন সরকার দারুণ সিনেমাটোগ্রাফি করেছেন।
যারা পর্দায় মিস্ট্রি থ্রিলার পছন্দ করেন, বিশ্বাস করি তারা সিনেমাটি উপভোগ করবেন।
মন্ট্রিয়ল, কানাডা




