
আমি সাধারণত যে সরকারের পতন হয় তাদের বিরুদ্ধে লেখি না। আমি সাধারণত এন্টি-গর্ভেমেন্ট ফ্লোতে থাকতেই স্বাচ্ছন্দ বোধ করি।
এর কারন হচ্ছে, একটি সরকারের পতন হয় তার কৃতকর্মের কারনেই।। অর্থাৎ কৃতকর্মের জন্য যে ফলটি তাদের পাওয়ার কথা ছিল সেটি তারা পেয়ে গেছে। ফল পাওয়ার কারনেই পতন হয়েছে। নতুন করে বলার কিছু নেই।
কেউ তো আর অস্বীকার করতে পারবে না আওয়ামী লীগ পাহাড় পরিমান দুর্নীতি করেনি। কেউ তো আর অস্বীকার করতে পারবে না আওয়ামী লীগ তিন তিনটি নির্বাচন করেছে ভোটাবিহীন। এই সব নির্বাচনের বিভিন্ন নাম আছে। রাতের অন্ধকারের নির্বাচন, ডামি নির্বাচন, ১৫৪ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন।
এই সব ভুয়া,ভোটারবিহীন নির্বাচন কি কেউ অস্বীকার করতে পারে? পারে না।
আর দুর্নীতি যে হয়েছে তাও অস্বীকার করা যায় না। যে পরিমান অর্থ পাচার হয়েছে তা সীমাহীন। বিশেষ করে ব্যাংকগুলি সব খালি হয়ে দেউলিয়া হয়ে পড়েছে। আওয়ামী লীগ নেতা, কর্মী, মন্ত্রী, সাংসদের সম্পদ আর লাগামহীন দুর্নীতি যে কোন সময়কে হার মানিয়েছে।
১৫ বছরে বিরোধী দলকে যেভাবে দমন, পীড়ন করা হয়েছে তা কল্পনাতীত। এটি সভ্য সমাজে সম্ভব না। এমন কি বিরোধী দলীয় নেত্রীকে সামান্য কিছু অর্থ আত্নসাৎতের অভিযোগ এনে দিনের পর দিন গৃহবন্দী রাখা হয়েছে যা চিরস্থায়ী প্রতিহিংসার রাজনীতিকে প্রশস্থ করেছে। অথচ সীমাহীন দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি, কাউকেই দুর্নীতির অভিযোগে শাস্তি দেওয়া হয়নি। দুর্নীতি দমন কমিশন ছিল ঠুঁটো জগন্নাথ। এর বিপরীতে সামান্য চার কোটি টাকা অর্থ আত্নসাৎতের অভিযোগ এনে বিরোধী দলীয় নেত্রীকে সাজা দেওয়া শুধু হাস্যকর নয়, জাতির সাথে বিরাট এক প্রহসনও বটে।
এই সব তো হয়েছে।অস্বীকার করার কি কোন উপায় আছে?
আর এইসবের জন্যই আওয়ামী লীগের পতন হয়েছে। কৃতকর্মের ফল ভোগ করছে।
নতুন করে বলার কিছু নেই। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতেই এই সব নিয়ে লেখেছি। বন্ধু মহলে আড্ডায়, আলোচনায় এই সব আলোচিত হয়েছে।
তবে এই সব বাদেও আরেকটি অভিযোগ ছিল আর তা হচ্ছে, ক্ষমতার দম্ভ, ধরাকে সরা জ্ঞান করা।
এমন কি আওয়ামী লীগের পতন হবার পরেও তাদের সেই দম্ভক্তি যায়নি। তাদের কৃতকর্মের জন্য কোন অনুশোচনা, অনুতাপ নেই। কেন পতন হয়েছে তা নিয়ে কোন মূল্যায়ন নেই।
নিচে একটি ভিডিও এটাচ করেছি।
ব্যারিস্টার কামরুল ইসলাম লিফটে তাকে না নেওয়ার কারনে পুলিশকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছে।
তার মানে কি দাড়ালো। ক্ষমতা হারানোর পরেও তাদের দম্ভক্তি যায়নি। তারা মোটেও অনুতপ্ত নয়।
৮৪ বছর বয়সী ড.ইউনুস তার মামলা চলাকালে শুনানীর জন্য কোর্ট হাউজে সিঁড়ি বেয়ে ৬ তলা পর্যন্ত উঠানামা করেছিলেন। ব্যারিস্টার কামরুল ইসলাম পুলিশকে গালি দেওয়ার আগে এই সব ভাবা উচিত ছিল। তুমি যা অন্যায় করবে তাই তোমার দিকে ফিরে আসবে। এটাই প্রকৃতির প্রতিশোধ।
এইভাবে দম্ভোক্তি করে, কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত না হয়ে কি তারা জনগনের মধ্যে আর ফিরে আসতে পারবে?
স্কারবোরো, কানাডা
