অন্টারিও লেইক এর পাশে

অন্টারিও লেইক এর পাশে

Waxed Amaryllis গাছটা বাসমাহকে দিয়েছিল মিনুবু( বাসমাহর মা)। আমাদের বাসা ভর্তি সব সবুজ গাছ। এখানে এনে টেবিলে রেখে দিয়ে অপেক্ষা করছিলাম কবে ফুটবে এই ফুল। ৩১ তারিখ থেকে একটা ফোঁটা শুরু হলো। ১ তারিখ এ একদম হেসে উঠলো। আমি আনন্দে কত ছবি যে তুললাম। মিনুবুকে ভিডিও পাঠালাম।

এই গাছটা এনেছিলাম কিংস্টন থেকে।

- Advertisement -

২৫ ডিসেম্বর সকালে কিংস্টন এ গিয়েছিলাম। বাসমাহর মা বাবা যেতে বলেছিল। কথা ছিল প্রথমেই Queens University র কাছে যেয়ে অন্টারিও লেইক এর পাশে হাঁটবো। এই তীব্র শীতেও লেইক এর পানি বরফ হয়নি।এপাড়ে দাঁড়িয়ে ওপারের wolf island এর উইন্ড মিল গুলো দেখা যাচ্ছিল। ওপারে যেতে হলে ফেরী নিতে হয়। গাড়িসহ ওপারে যাওয়া যায়।

অনেকগুলো হাঁস পরিবার পরিজন নিয়ে কলকল করছিল। পাড়ে হাঁটার সময় অনেকগুলো রাজহাঁসও দেখলাম। এমন অহংকারী ভাবভংগী দেখলে বিস্ময় লাগে!

অদ্ভুত এক অনুভবের দোলাচল হয় এমন সুন্দর জায়গায় গেলে। বাচ্চাদের সাথে অল্প কিন্তু একান্ত কিছু সময়। সবাই যে যার কাজ, জীবন নিয়ে ব্যস্ত। এরমাঝে যতটুকু সময় পাই, স্মৃতি তৈরী করি।

কানাডার প্রথম প্রেসিডেন্ট Sir John A. Macdonald এর বাসা এই লেইক এর খুব পাশে।বাসার সামনে দিয়ে যেতে যেতে গল্প হয়।

খুব সুন্দর জায়গা এই কিংস্টন।  যতবার যাই মনেহয় এর পরেরবার এসে হেঁটে বেড়াবো। না হাঁটলে পথের সাথে টান হয় না!

বাসমাহ’র মা অনেক মজার মজার রান্না করেছিল। আমিও গরুর তেহারী আর হাঁস রান্না করে নিয়েছিলাম।

বুজান, দুলাভাই বাসমাহর (ফুপী আর ফুপা), তাদের পরিবারের সবাই আর কিছু বন্ধুর পরিবার এসেছিল।

সুন্দর কাটলো সারাটা দিন।

একটু রাত হলেও চলে এলাম।দুই ঘন্টার পথ!

বেশ শীত পড়েছে। লিভিং রুমে গেলেই amaryllis র দিকে চোখ পড়ে। চারটা ফুল ফুটেছে। আরো একটা ফুটবে। মুগ্ধ হয়ে দেখি। ক্ষণজন্মা বলেই কি এত সুন্দর !

যতবার তাকাই মনেহয় ওদের কথা লিখি।

ফুল সুন্দর। মানুষ আরো সুন্দর।

এই সুন্দর ছুঁয়ে মনেহয় সব কষ্টগুলো কমে যায়!

আমরা কেউ কাউকে কষ্ট না দেই। যে যার মত ভালো থাকি। জীবন ফুরাচ্ছে প্রতিনিয়ত!

আমরা সবাই ভালো থাকি! ভালোবাসায় থাকি!

 

অটোয়া, কানাডা

- Advertisement -

Read More

Recent