
শীতের বাঁশী বাজতে আর অল্প বাকি।
আমাদের এই উইন্ডসরের আজকের এই শান্ত সকাল হাল্কা বরফের আস্তরনে ঢাকা।
এখনো ঝরছে বরফ অঝোরে।
এই মুহূর্তে ঘরের বাইরের তাপমাত্রা হিমাঙ্কেরও নিচে। তাও ভালো লাগছে অনেক। কি এক অজানা আনন্দ জানিনা, সাদা চাঁদুর মুড়িয়ে নতুন অতিথি এসেছে, হয়তো তাই। দেশে থাকলে বর্ষা এলেই মনে হতো অতিথী এসেছে কদম ফুল নিয়ে আর এখানে বরফ।
আমার মনে আছে কয়েক বছর আগে কোন এক জানুয়ারীতে দেশ থেকে ক্যানাডা ফিরছিলাম। পথে বরফ বিড়ম্বনায় লন্ডনে হোটেলে থাকতে হয়েছিল এক রাত। সকালে উঠেই হাঁটতে বের হলাম টেমস নদীর পাড়ে। ভেবেছিলাম বরফে ঢাকা থাকবে চারদিক আর আমি হাঁটবো শীতের কাঁথা গাঁয়ে দিয়ে। কিন্তু বের হয়ে খুবই হতাশ হলাম। নেই বরফ, নেই তেমন কোন ঠাণ্ডাও। তখনই টের পেলাম বরফের সাথে আমার কতো সখ্যতা।
আমাদের এই উইন্ডসরে সাধারনতঃ জানুয়ারীতে প্রচুর বরফ পড়ে। বাচ্চারা তখন বাসার সম্মূখ আঙ্গিনায় খেলা করে বরফ নিয়ে। কেউ প্যাজা তুলার মতো হাল্কা বরফ গাঁয়ে জড়িয়ে ঘাঁসের উপর গড়াগড়ি খায়, কেউবা আবার আইস ব্লক দিয়ে খেলনা ঘর বানায়। কোন কোন বাচ্চারা বরফ জড়ো করে তা দিয়ে বানায় শ্বেত ভল্লুক আর বল্গা হরিণ। আমার খুব ভালো লাগে তখন রাস্তায় মোটা বরফের আস্তরনের উপর দিয়ে ধীর গতিতে গাড়ী চালাতে আর ধবধবে সাদা প্রকৃতির অপরূপ রূপ দেখতে। বড় ইচ্ছে হয় বের হই আইস স্কেটিংএ কিংবা অনেক দূরে কোথাও যাই আইস ফিশিং এ।
আসলে সবই শুধু ভাবনা- করা হয়না কখনো কিছুই।
মাঝে মাঝে শুধুই মাঝ রাতে উঠে অন্ধকারে কাঁচের জানালা দিয়ে তাঁকিয়ে থাকি খোলা অকাশের দিকে, অবাক বিস্ময়ে।
উইন্ডসর, কানাডা



