
হাঁটা বাবাকে অনেক দিন দেখি না। তিনি হঠাৎ চুপচাপ হয়ে গেলেন কেন?আগে উনাকে প্রায়ই দেখা যেতো। হয় প্রধান উপদেষ্টার সাথে, না হয় রাষ্ট্রপতির সাথে টাইম টু টাইম দেখা করতেন। মাঝে মাঝে নানা বিষয় নিয়ে ইন্টারভিউ দিতেন।
মাঝে মাঝে দেখা যেতো বিভিন্ন ক্যন্টনমেন্ট পরিদর্শন করছেন। সংখ্যালঘুদের দেখ-ভালও করতেন। বিভিন্ন পূজা পার্বন উপলক্ষে মন্দিরে গিয়ে বক্তিতা দিতেন। খ্রিষ্টানদের গির্জাতেও দেখা গেছে।
হঠাৎ হাঁটা বাবা লোক চক্ষুর অন্তরালে চলে গেলেন কেন? জানি না, তিনি হয়ত সীমান্তে টুকিটাকি ঝামেলা হচ্ছে, সেগুলো সামাল দিচ্ছেন।
তবে তিনি বেশ বুদ্ধিমান মানুষ।
মাঝখানে বিক্রম মিশ্রি বাবু এসে এক ঘন্টা উনার সংগে বৈঠক করেছিলেন। সেখানে কি কথা হয়েছিল কে জানে। কি পড়া দিয়ে গেছেন! পানি পড়া, নাকি চাল পড়া?
আবার ভারতের সেনাপ্রধানও দেখলাম একটা কিছু বলেছেন। নির্বাচিত সরকারের সাথেই তারা নিয়মিত সম্পর্ক করবেন, অনিয়মিত সরকারের সাথে নয়।
একটা বিষয় বুঝলাম না। এই কথা সরকার থেকে বলার কথা কিন্তু বলেছেন সেনাবাহিনী প্রধান।
আমি আমার জীবনে ভারতের সেনাপ্রধানকে রাজনৈতিক বিষয়ে বক্তব্য দিতে দেখিনি।
যাইহোক, হাটা বাবা কই? তিনি এক ইন্টারভিউ দিয়ে গায়েব হয়ে গেছেন!!
অবশ্য ইন্টারভিউতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন।
ভারত আমাদের কৌশলগত পার্টনার। এই সম্পর্ককে hamper করা যাবে না। তবে দুই দেশের সম্পর্ক হতে হবে ন্যায্যতার ভিত্তিতে।
হক কথা বলেছেন তিনি।
এটার মানে কিন্তু এটাও বুঝায়, ইউনুস সাহেব ভারতের সাথে সম্পর্ককে তলানীতে নিয়ে গেছেন।হাঁটা বাবা আকারে ইংগিতে বুঝিয়েছেন, সেটা ঠিক হয়নি।
কথা সেটা নয়। কথা হচ্ছে, তিনি কই?
খালেদা জিয়ার বাসায় গিয়ে খোজ-খবর নিলেন। কুশলাদী জিজ্ঞেস করলেন। এই নিয়ে মিডিয়াতে অনেক হল্লা হলো। কি কথা তাহার সাথে? তার সাথে?
এরপর উনি গায়েব?
নাকি রাগ করছেন?অভিমান করে কি আর পাব্লিকলি আসবেন না?
তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্যাঁচ খেয়ে গেলো!
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য বিএনপি এবং জামাত সুপ্রিম কোর্টে একটি রিভিউ আবেদন করেছিল।
বিষয়টা নিয়ে আমার মনে একটু খটকা ছিল।
বার বার মনে হয়েছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য বিএনপি, জামাত এত তোড়জোড় করবে কেন?
তারা কি এতই সাধু যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে এনে সুষ্ঠু একটা নির্বাচন করতে দিবে?
এর উত্তর হচ্ছে ” না”।
বিএনপি, জামাত এখন আর তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাচ্ছে না। এইজন্য তারা আদালতে বার বার সময় চেয়ে শুনানি পিছিয়ে দিচ্ছে। তারা এখন ড. ইউনুসের অধীনেই নির্বাচন চাচ্ছে।
বিশেষ করে বিএনপি এখন হিসাব করে দেখেছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে বিএনপির জন্য তা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে তারা সব দলকে সমান সুযোগ দিয়ে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করার চেষ্টা করবে। সেটি হলে আওয়ামী লীগ আবার অবাধে রাজনীতি করার সুযোগ পাবে। তারা আবার মাঠে নামতে পারবে। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় সব দলের মতো সমান সুযোগ পাবে। বিএনপির জন্য আরও আশংকা যে,নির্বাচন সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ হলে তাদের জয়ও হাত ছাড়া হয়ে যাতে পারে।
এই সব হিসাব কষে বিএনপি এখন এই অন্তবর্তীকালীন সরকারের অধীনেই নির্বাচন করতে আগ্রহী। কারন, এই সরকার প্রচন্ডভাবেই আওয়ামী লীগ বিদ্বেষী। এই সরকার আওয়ামী লীগের প্রতি এতটাই বৈরী যে তারা আওয়ামী লীগকে দাড়াতেই দিচ্ছে না। আওয়ামী লীগকে সর্বত্র দমিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। তাই এই সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ নির্বাচন করার সুযোগ পেলেও অন্যান্য দলের মতো সমান সুযোগ পাবে না। অন্যান্য দলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকবে কিন্তু আওয়ামী লীগের জন্য থাকবে না। এমনকি তারা ঠিক মতো নির্বাচনী প্রচার-প্রচারনার ক্ষেত্রেও নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হবে। নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রার্থীতা বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও তারা বৈরীতার শিকার হবে। আর এই সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হবার সম্ভাবনা একেবারেই নাই। অন্তত আওয়ামী লীগকে তারা কোনভাবেই আসতে দিবে না।
তাই বিএনপি ভাবছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের চেয়ে এই অন্তবর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন করাই ভালো।
তাই তারা রিভিউ আবেদনের শুনানি সময় চাওয়ার বাহানা করে পিছিয়ে দিচ্ছে। এই শুনানি হবার কথা ছিল জানুয়ারীর ১৯ তারিখ। বিএনপি আরও সময় চাওয়ায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ পরবর্তী শুনানির তারিখ পিছিয়ে দিয়েছে ফেব্রুয়ারীর ৯ তারিখ। আমার ধারণা এই তারিখও পিছিয়ে যাবে। এইভাবে পিছাতে পিছাতে এটি আর আলোর মুখ দেখবে না। সুপ্রিম কোর্ট নিজ উদ্যোগে শুনানির তারিখ পিছানো রোধ করে শুনানির আদেশ দিবে বলে মনে হয় না যদি না রিভিউ আবেদনকারীরা স্বেচ্ছায় শুনানি করতে চায়।
তবে এই অন্তবর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন করতেও বিএনপির অন্য একটি আশংকা কাজ করছে।
সেটি হচ্ছে, এই অন্তবর্তীকালীন সরকারের পেছনে জামাত, শিবির এবং একটি জংগী গোষ্ঠী সক্রিয় আছে। এই সরকার এই শক্তিগুলোর দ্বারা প্রভাবিত এবং পরিচালিত হচ্ছে। এই সরকার এদের প্রভাব বলয়ের মধ্যে আবদ্ধ। তাই অন্তবর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে এরা নির্বাচনে ম্যাকানিজম করে জামাত এবং অন্যান্য ইসলামী দলগুলিকে ক্ষমতায় নিয়ে আসতে পারে।
সেটি হলে কিন্তু বিএনপি এখানেও ধরা খেয়ে যাবে।
তাই দলটি এখন ভিষণ বেকায়দায় পড়েছে। বিরাট এক গ্যাঁড়াকলের মধ্যে আছে। অনেকটা শাঁখের করাতের মতো। এদিকেও কাটে, ওদিকেও কাটে।
গতকাল তারেক জিয়ার ভার্চুয়াল মিটিংয়ে এই সব আশংকাই ফুটে উঠেছে। তবে তিনি তো আর এত ডিটেইল বলবেন না। বিষয়টি নেতা-কর্মীদের বুঝে নিতে হবে।
সেই ফাঁকে আমরাও না বলা কথার এনালাইসিস করে নিলাম একটু।
স্কারবোরো, কানাডা
