সোশাল মিডিয়ার যুগে

সোশাল মিডিয়ার যুগে

ছোটবেলা থেকেই লেখালেখির শখ ছিল।

আমাদের শৈশবে প্ল্যাটফর্ম বলতে তখন কেবলই জাতীয় ও স্থানীয় কিছু পত্রিকা, লিটল ম্যাগাজিন ইত্যাদি। সেখানে লেখা পাঠাতে হয় কিভাবে সেটাই জানিনা। দ্বিধা আর সঙ্কোচের কারনেও পাঠানো হতো না।

- Advertisement -

এরপরে এলো সোশ্যাল মিডিয়ার যুগ। অনলাইনে অতি সহজে বাংলা টাইপ করার সফটওয়্যারও এসে গেল। একটি মাত্র ক্লিক, এবং তারপরেই আমার লেখা লাখো পাঠকের কাছে পৌঁছে যাবে। এরপরে আর যেন কোন অজুহাত বাকি থাকলো না।

কিন্তু লেখালেখি করলে প্রকাশ যে করবো, ঠিক কোথায় করা যায়? নিজের প্রোফাইলে প্রকাশ করলেতো কয়েকদিন পরেই খুঁজে পেতে কষ্ট হবে। ফেসবুকে তখন অনেকগুলি বাংলা পেজ, এবং একটারও মান ভাল না। আজগুবি, গাঁজাখুরি সব কাহিনীকে “সত্য ঘটনা” দাবি করে পাঠকদের গেলেনো হয়। এইসব পেজে লেখালেখি করাটা নিজের লেখালেখিকে অপমান করার সামিল।

প্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদের কাছে নিজের লেখালেখি ছিল অমৃততুল্য। অমৃতকে যেমন স্বর্ণভাণ্ডারে ধারণ করতে হয়, তেমনই তিনি তাঁর লেখাগুলিকে ধারণ করতেন রেডিওবন্ড কাগজে।

আমি তাঁর এক নম্বর মুরিদ, এবং অনলাইন লেখক। আমি নিজের স্বর্ণভান্ডার তৈরী করলাম। ক্যানভাস। সাথী হিসেবে আমার পার্টনার ইন ক্রাইম, ফুপাতো ভাই তারেক। ওর বুদ্ধিতেই ক্যানভাস পেজ থেকে একটি “গ্রূপ” হলো।

শুরুর দিকে আমরাই লেখক, আমরাই পাঠক। নতুন কোন সদস্য যুক্ত হলে, মন্তব্য করলে, পোস্ট করলে আনন্দ ধরে রাখতে পারতাম না। সামনাসামনি দেখা হলে কেউ যখন বলে “আমি তোমার লেখা পড়ি।” তখন কি যে আনন্দ লাগে! একজন সৃষ্টিশীল শিল্পীর কাছে দর্শকের সপ্রশংস দৃষ্টির চেয়ে আর কিই বা বেশি মূল্যবান?

আজকে সেই ঘটনার তেরো বছর পূর্ণ হলো।

ক্যানভাসের জন্মদিন!

দীর্ঘ তেরোটা বছরে আমরা, আমাদের দেশ, গোটা পৃথিবী অনেক পরিবর্তন, পরিবর্ধনের মধ্য দিয়ে গিয়েছে। নতুন নতুন সদস্য যুক্ত হয়েছেন, বহু পুরানো সদস্য সঙ্গত্যাগ করেছেন। আমাদের পথচলা  থামেনি। তাইতো এককালের শুধু পাঠক একদিন কিবোর্ডে লেখালেখি শুরু করে আজকে একাধিক বইয়ের লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ডালাসে অনুষ্ঠিত এক বইমেলায় গিয়ে লেখকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে শুনি উনারা প্রত্যেকে বলছিলেন উনাদের প্রথম লেখালেখির হাতেখড়ি এই ক্যানভাসের মাধ্যমেই।

আমি তখন মজা করে বলি যে একজন লেখকের কাছে তাঁর লেখা সন্তানতুল্য হলে, ক্যানভাসের লেখক লেখিকাদের বইগুলো আমাদের কাছে নাতি/নাতনি তুল্য।

ক্যানভাসের এই সফলতার প্রধান কারন আপনারা, গ্রূপের সদস্য, লেখক ও পাঠক, তথা সৃষ্টিশীল মানুষেরা।

আপনাদের কারণেই আমরা এতদূর এগিয়ে এসেছি, আরও বহুদূর সামনে এগোনোর স্বপ্ন দেখি।

আপনাদের কাছে তাই আমাদের রইলো অশেষ কৃতজ্ঞতা।

সেই সাথে একটি অনুরোধ রইলো, বেঁচে থাকতে কখনও নিজের সৃষ্টিশীল মনকে দাবিয়ে রাখবেন না। চলমান জীবনের নানান মোড়ে নানান ব্যস্ততা আসবে, কিন্তু নিজের সৃষ্টিশীলতার জন্য আলাদা সময় বের করে রাখবেন। আর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ক্যানভাসতো আছেই।

- Advertisement -

Read More

Recent