মার্ক কার্ন ও সেনা প্রধান

ভলকার তুর্ক কিন্তু স্পষ্টই বলেছেন সেনাবাহিনীকে সতর্ক করেছিলাম পরে পরিবর্তন দেখলাম

আমার আগের পোস্টে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আইএসপিআর-এর বক্তব্য দেখতে পাবেন।

আইএসপিআর এর  বিবৃতিতে বলা হয়েছে,জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক জুলাই-আগষ্ট আন্দোলনের সময় কোন সতর্ক করে থাকলে তা সরকারকে করেছেন, সেনাবাহিনীকে নয়।

- Advertisement -

কিন্তু আমরা যদি ভলকার তুর্কের বক্তব্য দেখি তাহলে সেই বক্তব্যে কি দেখতে পাই?

ভলকার তুর্ক কিন্তু স্পষ্টই বলেছেন, “সেনাবাহিনীকে সতর্ক করেছিলাম, পরে পরিবর্তন দেখলাম।”

“বাংলাদেশে জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের সময় দমন-পীড়নে অংশ না নিতে সেনাবাহিনীকে সতর্ক করেছিলেন বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক।”( সূত্র: যুগান্তর)

প্রশ্ন হচ্ছে,ভলকার তুর্ক কোথাও কি বলেছেন, সরকারকে সর্তক করেছিলাম?

তাহলে আইএসপিআর এর বিবৃতি কতটুকু সত্য?

সেনাবাহিনীর আইএসপিআর থেকে এই ধরনের মিথ্যাচার অনাকাঙ্ক্ষিত এবং দু:খজনক।

এটা তো স্পষ্টই বুঝা যাচ্ছে ভলকার তুর্ক জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় সেনাবাহিনীকেই সতর্ক করেছিলেন, যার কারনে সেনাবাহিনী আন্দোলন দমনের কোন চেষ্টা করেনি। তারা নিরব ভূমিকা পালন করেছিল।

সেনাবাহিনীর সেই সময়ের নিরব ভূমিকাই তো প্রমান করে ভলকার তুর্ক সেনাবাহিনীকেই সতর্ক করেছিল।

সরকারকে যদি সতর্ক করে থাকতেন তবে প্রশ্ন উঠতে পারে, সরকারের কাকে সতর্ক করেছিলেন? সেই সময়ের   প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে?

শেখ হাসিনাকে যদি সতর্ক করে থাকতেন তবে সেটির প্রমান কই?

ভলকার তুর্কের কাছ থেকে সতর্ক বার্তা পাওয়ার পর শেখ হাসিনা কি করতেন?  তিনি কি চুপচাপ চেপে যেতেন?  নাকি সরকারের মধ্যে তা নিয়ে আলোচনা করতেন?

সেই রকম তো কোন প্রমান আমরা পাই না।

বরং সেই সময় সেনাবাহিনী ঢাল তলোয়ারহীন নিধিরাম সর্দারের মতো নিরব দাঁড়িয়ে থাকাই প্রমান করে ভলকার তুর্ক সতর্ক সেনাবাহিনীকেই করেছিলেন। আর সেটি করেছিলেন সেনাপ্রধানকেই।

 

দুই

আমার ধারণা মার্ক কার্নি প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার পর তার নতুন ক্যাবিনেট সদস্যদের নাম ঘোষণা করবেন। তবে তিনি গভর্নর জেনারেলকে পার্লামেন্ট ভেংগে দিয়ে নতুন নির্বাচন দেওয়ার জন্য অনুরোধ করবেন।

এর কারন হচ্ছে, মার্চের ২৪ তারিখ যে নির্ধারিত  পার্লামেন্ট অধিবেশন রয়েছে তাতে বিরোধী দল সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে পারে। এনডিপি ইতিমধ্যে লিবারেলের সাথে করা সাপ্লাই এগ্রিমেন্ট থেকে বের হয়ে এসেছে। এনডিপিও এই অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিতে পারে। সেক্ষেত্রে লিবারেল মাইনোরিটি সরকারের পতন হবে। এনডিপি প্রধান জাগমিত সিং লিবারেলের নতুন নেতা মার্ক কার্নিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ঠিকি কিন্তু তার সরকারকে সমর্থন অব্যাহত রাখবেন কিনা সেই বিষয়ে কিছু বলেননি।৷নতুন নেতা হিসাবে মার্ক কার্নিও এনডিপির  সমর্থন চান কিনা সেই বিষয়ে এনডিপির সাথে কোন আলোচনা এখনো পর্যন্ত চোখে পড়েনি।

খুব সম্ভব তিনি তার সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী দলের আনা অনাস্থা প্রস্তাবের ঝুঁকির মুখে পড়তে চাইবেন না।

সহজ হিসাব হচ্ছে,পার্লামেন্ট ভেংগে দিয়ে নতুন নির্বাচন দিয়ে নতুন করে জনগনের ম্যান্ডেট নিয়ে ফিরে আসা। তিনি ট্রুডোর করা ম্যান্ডেটে কেন থাকবেন?

তিনি তো অবশ্যই চাইবেন জনগন তাকে ভালোভাবে চাচ্ছে কিনা সেই পরীক্ষার মধ্য দিয়ে গিয়ে নিজেকে যাচাই করে নেওয়া। আর সেটি হচ্ছে নতুন নির্বাচন।

তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে,নতুন ক্যাবিনেট কেন করতে হবে?

এর কারন হচ্ছে, নতুন নির্বাচন  আয়োজন করতে মিনিমাম এক মাস থেকে মাক্সিমাম তিন মাস সময় লাগতে পারে।

এই ইন্টারিম সময়টা মার্ক কার্নিকেই প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে যেতে হবে। সেই কারনেই কিছু দিনের জন্য হলেও ক্যাবিনেট গঠন করতে হবে।

আমার বিশ্লেষণে এমনটাই বলে। আবার অন্য ধরনের বিশ্লেষণও থাকতে পারে।

- Advertisement -

Read More

Recent