
বয়স হলে মানুষ নাকি অনেক কিছু ভুলে যায়, তো আমাদের অধ্যাপক ইউনুসেরও কি একই সমস্যা, নইলে যখন তখন কেন তিনি বলছেন যে, জীবনেও মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেননি? ১৯৯৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারে তিনি কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন, সেটা বেমালুম ভুলে গেলে হবে?
এটা ঠিক যে, মন্ত্রণালয়েরে চেয়ে তার আগ্রহ বেশি ছিল ভবিষ্যত সরকারের সাথে কী কী বিষয় নিয়ে ব্যবসা করবেন, সেই ধান্দায়। বলা বাহুল্য, তার মনের বাসনা পুরণ হয়েছিল, তিনি গ্রামীন ফোনের ব্যবসাটা হাতিয়ে নিয়েছিলেন। বাণিজ্যে বসতি লক্ষী, কথাটা মিথ্যে না। লক্ষী যেন তার পায়ের কাছে নুয়ে পড়েছিল। রেলওয়ের ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক ব্যবহারের অনুমতি পেয়ে গেছিলেন শেখ হাসিনার সরকারের নিকট থেকে।
বাড়তি এই সুবিধার কারণে বাকি অপারেটররা দাঁড়াতেই পারছিল না। কারণ, তাদেরকে নির্ভর করতে হয়েছিল নিজেদের টাকায় নির্মিত টাওয়ারের ওপর। সিটিসেলে কর্মরত আমার এক বন্ধু খুবই চটেছিল ইউনুস এবং শেখ হাসিনার ওপর।
শেখ হাসিনা যাকে দেয়, তাকে নাকি সবকিছু উজার করেই দেয়। তো ধুরন্ধর ইউনুস একটা প্রতারণার আশ্রয় নিলেন, সরকারকে বুঝালেন যে, গ্রামীন ব্যাংকের সদস্যরা গ্রামীন ফোনের লাভের টাকা পাবে। আর মাঝখানে তিনি খুললেন গ্রামীন টেলিকম নামে একটা হোল্ডিং কোম্পানি, গ্রামীন ফোনের দেশি অংশের মালিকানা দেওয়া হলো গ্রামীন টেলিকমের কাছে।
এভাবে গ্রামীনফোনের সাথে গ্রামীন ব্যাংকের সদস্যের আর কোন সম্পর্ক থাকলো না। হোল্ডিং কোম্পানির ধারণা বাংলাদেশে তেমন জনপ্রিয় না। বাঙালির কর্পোরেট যাত্রা বলা যায় একেবারে নতুন। এখন অবশ্য অনেক হোল্ডিং কোম্পানির নাম শোনা যায়। সে ভিন্ন গল্প।
ইউনুস গ্রামীন নামে যে অর্ধ-শতাধিক ব্যবসা খুলেছেন, তার মধ্যে কে যে কাকে হোল্ড করে, সেটা বুঝতে পিএইচডি করার মতো গবেষণা লাগবে। কার ঠেকা পড়েছে? ওই যে, দেশের এমন নামকরা মানুষ, তিনি কি প্রতারণা করতে পারে? সহজ-সরল বাঙালির মাথায় কাঁঠাল ভেঙে খাচ্ছে ইউনুস, কিন্তু, বাঙালি ভাবছে–দেখি না ব্যাটা কী করে!
ক্যালগেরি, আলবার্টা
